১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে উচ্ছেদের পর ফাঁকা ফুটপাতে পথচারীর স্বস্তি

অভিযানে নগরের নিউ হকার্স মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ দোকানীকে জরিমানা করেছে টাস্কফোর্স।

ময়মনসিংহে উচ্ছেদের পর ফাঁকা ফুটপাতে পথচারীর স্বস্তি
ময়মনসিংহ নগরে অস্থায়ী নিউ হকার্স মার্কেট গুঁড়িয়ে দিয়েছে টাস্কফোর্স।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2025, 09:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

ময়মনসিংহ নগরে অস্থায়ী একটি মার্কেট এবং রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতে বসা অবৈধ ভাসমান দোকান-হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে টাস্কফোর্স। এতে নগরের তাজমহল মোড় থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত সড়কের দুপাশে চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।

রোববার সকাল থেকে চালানো এই অভিযানে নিউ হকার্স মার্কেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ দোকানীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নগরীতে সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফেরাতে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী হাকিম সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু। 

অভিযানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নূর মোহাম্মদ নাহিয়ান ইসলাম, র‌্যাব-১৪ সদর দপ্তরের ডিএডি রফিক, আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট রবিউল ইসলাম, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শুরুর আগে স্টেশন রোডে নিউ হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নিতে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। তড়িগড়ি করে ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। পরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত স্থাপনাগুলো ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

ব্যবসায়ী নূর আলম বলেন, “জেলা প্রশাসক এখানে ব্যবসা করার জন্য অস্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে না জানিয়ে ভাঙা হলো, বিষয়টি বুঝতে পারলাম না। বাল-বাচ্চা নিয়ে চলাটা খুব কঠিন হবে।”

আরেক ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, “প্রশাসনের কাছে দাবি, পরিবারের কথা চিন্তা করে আমাদের পুনর্বাসন করা হোক। আগে রাস্তার পাশে বসার কারণে সমস্যা হত, যানজট ভোগান্তিতে পড়ত মানুষ। তাই এখানে চলে এসেছিলাম, এটাও আমাদের জন্য স্থায়ী হল না।”

কয়েক বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা করে আসছেন রুপন মিয়া। তিনি বলেন, “এখানো ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে চলছি। আজ সবকিছু ভেঙে দেওয়া হল। এখন কি করব ভেবে পাচ্ছি না। আমাদের বিষয়টি যেন প্রশাসন বিবেচনা করে।”

এদিকে হকার উচ্ছেদ হওয়ায় ফুটপাত ধরে চলাচলে স্বস্তি ফেরার কথা জানিয়েছে গাঙ্গিনারপাড় এলাকার বাসিন্দারা। 

ওই এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় রাস্তার দুপাশে হকার বসার কারণে তীব্র যানজট লেগেই থাকত। এতে ছিনতাইকারীরা সুযোগ পেত। উচ্ছেদ অভিযানের পর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন তারা। এমন পরিবেশ থাকলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।

গাঙ্গিনারপাড় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান ছোটন বলেন, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাজমহলের মোড় থেকে নতুন বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে ফুটপাতে থেকে অবৈধ ভাসমান দোকান ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে।

“এসব স্থানে যাতে আর হকার বসতে না পারে সেজন্য ২৫ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। যাদের ব্যয়ভার বহন করবে ব্যবসায়ীরা। এতে স্থায়ীভাবে হকারমুক্ত হবে এসব এলাকা। মানুষের চলাচল হবে নির্বিঘ্ন।”

নির্বাহী হাকিম সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপু বলেন, ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকান ও হকারদের কারণে পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটত। এতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজট লেগেই থাকত।

অবৈধ হকার উচ্ছেদ অভিযানের আগে জেলা তথ্য অফিস থেকে সতর্ক করে প্রচার চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফেরাতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান সিটি করপোরেশনের নির্বাহী হাকিম সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, কোনো হকার যেন আর অবৈধভাবে রাস্তার পাশে বসতে না পারে সেজন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া হকারদের যদি কোনো দাবি দাওয়া থাকলে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে বলতে পারেন বলে জানান সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা।