Published : 06 Aug 2026, 05:38 PM
হাতকড়াসহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ মাঠে ৪৮ বছর বয়সি মনির খানের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সম্প্রতি আইসিইউ বেডে হাতকড়া পরা তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
রাতে তার লাশ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। সকালে তাকে এক নজর দেখতে মানুষের ঢল নামে। এ সময় স্বজন, প্রতিবেশী এবং তার সমর্থক ও পরিচিত জনের কান্নায় আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এদিন সকালে বৃষ্টি উপক্ষো করে জানাজায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিরাও অংশ নেয়।
মিজানুর রহমান উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতি ছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পটুয়াখালীতে মিজানুরের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা করা হয়। ঢাকার পল্টন থানার একটি মামলায় ১১ মাস আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।
মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোসা. সালমা জাহান বলেন, ৯ জুন কাশিমপুর কারাগারে মিজানুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো খবর দেয়নি। সেখানে থাকা পরিচিত এক আসামির আত্মীয়ের মাধ্যমে খবরটি জানতে পারেন তিনি।
তিনি বলেন, মিজানুর রহমানকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল হয়ে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
সালমা জাহান বলেন, ১৪ জুন থেকে মিজানুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। ভর্তির দুই দিন পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৩০ জুলাই ভার্চ্যুয়ালি শুনানির আদেশে মিজানুর জামিনে মুক্ত হন বলে জানান তিনি।
আইসিইউতে থাকা অবস্থায় মিজানুর রহমানের একটি ছবি ফেইসবুকে ছড়ায়। সেই ছবিতে দেখা গেছে, তার গলায় একটি মোটা পাইপ লাগানো, নাকে নল। শয্যায় থাকা মিজানুরের ডান হাতে মোটা দড়িসহ হাতকড়া লাগানো। তবে আঙুলে অক্সিমিটার ছিল।
সালমা জাহান বলেন, “আইসিইউতে ভর্তি অবস্থায় অনেকবার হাতকড়া খুলতে বললে দায়িত্বরত পুলিশ শুধু বলেছে, খোলার নিয়ম নেই।”
“আমার স্বামী এক মামলায় জামিন পান, আবার আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই এমন জুলুম করা হয়েছে”, বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলায় মিজানুর রহমানকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহারে তাকে ‘সন্দিগ্ধ আসামি’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তার স্ত্রী সালমা জাহানও তিনটি মামলায় পটুয়াখালী জেলা কারাগার এবং কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ছয় মাস বন্দি ছিলেন।
সালমা পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।