Published : 22 Nov 2025, 12:13 AM
সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে হত্যা মামলার এক ‘সন্দেহভাজন আসামির’ মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, শাহাদত হোসেন মুকুল (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি ‘শ্বাসকষ্টজনিত’ কারণে মারা গেছেন। কিন্তু চিকিৎসক বলেছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে মারা যান মুকুল, যিনি পেশায় রিকশাচালক। তার বাড়ি সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুরে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হেমাদ্রি শেখর সাহা বলেন, সাদা পোশাকে একদল পুলিশ সদস্য বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মুকুলকে হাসপাতালে আনেন। ভর্তির সময় তার হাত ও পায়ে ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।
“ক্ষত দেখে কারণ জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাটিকে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ বলে দাবি করেন। ভর্তির কিছুক্ষণ পরই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ মর্গে রয়েছে।”
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহবুবুর রহমান রাতে বলেন, গত ১২ নভেম্বর উল্লাপাড়ায় বগুড়া-পাবনা মহাসড়কের চৌকিদহ সেতুর নিচে এক অটোরিকশা চালকের লাশ পাওয়া যায়। ওই ব্যাক্তির নাম আমিনুল ইসলাম।
পুলিশ বলছে, তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় মুকুল ছিলেন সন্দেহভাজন আসামি।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। এ ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করার কথাও জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
উল্লাপাড়া থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, অটোরিকশা চালক আমিনুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের বাবা মামলা করেন। মামলাটি সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই রিকশাচালক জহুরুল ইসলাম বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছোট ভাইকে পুলিশ সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তারা হেফাজতে রেখে মারধর ও নির্যাতন করার কারণে সে মারা গেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”