Published : 06 Sep 2026, 11:07 PM
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অমান্য করে মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতাংশের পুকুর ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৪৬ নম্বর চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা।
তিনি বলেন, “বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়ও বিষয়টি অবগত আছেন। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আইনানুযায়ী, ‘প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ অনুযায়ী কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী বা খালের স্বাভাবিক চরিত্র পরিবর্তন কিংবা ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাট করা যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক সপ্তাহ ধরে কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল মাটি ও বালু দিয়ে পুকুরটি ভরাট করছেন। এর সঙ্গে চরনাচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়ার যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও তাদের অভিযোগ।
যদিও ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, তিনি স্কুলের খেলার মাঠ সম্প্রসারণের জন্য সরকারি প্রকল্পের আশায় এটি করেছিলেন। কিন্তু প্রকল্প পাস না হওয়ায় তিনি নিজের তহবিল থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ করে পুকুরটি ভরাট করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফায়েকুজ্জামান বাবুল বলেন, “জনস্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্কুলের পুকুরটি ভরাট করেছি। এতে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন মিয়া বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান পুকুরটি ভরাট করেছেন। খেলার মাঠ বড় করার জন্য এটি করতে দেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে পুকুর ভরাটের কোনো সরকারি অনুমতিপত্র নেই।”
ক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
পুকুরটি ভরাট করায় এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।
পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস্ অব নেচার’ এর নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর ভরাট করা গুরুতর আইনি অপরাধ। ভরাট করা মাটি অপসারণ করে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।”
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, “আইন অমান্য করে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে সরকারি পুকুর ভরাটের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জালিয়াতির বিচার হওয়া প্রয়োজন।”
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মাদারীপুরের উপ-পরিচালক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের কোনো আইনি অধিকার নেই বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বা পুকুর ভরাট করার। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।