Published : 15 May 2026, 07:32 PM
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সাতক্ষীরায় হয়েছে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ অনুষ্ঠান।
রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ অনুষ্ঠান হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির জেলা শাখার আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
এতে জেলার বিভিন্ন বয়সী শিল্পী, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত পরিবেশন করেন।
মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের সাহিত্য ও গান মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। সামাজিক অবক্ষয় ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। রবীন্দ্র-নজরুল চর্চা তরুণদের মানবিক ও মননশীল হতে সহায়তা করবে।

পরে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রতিকৃতি নিয়ে শহরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক শুভ্র আহমেদ।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ মানুষকে ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা দেন আর নজরুল শেখান সাম্য ও প্রতিবাদের কথা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
তিনি বলেন, “রবীন্দ্র-নজরুল চর্চা সমাজে মানবিকতা ও সংস্কৃতির চেতনা জাগিয়ে রাখতে সাহায্য করে।”

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ফাইজা হোসেন অন্বেষা এবং গীতিকার ও সংগীতশিল্পী আজিজুর রহমানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে ফাইজা হোসেন অন্বেষা বলেন, সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন করে তোলে।
আর আজিজুর রহমান বলেন, “রবীন্দ্র ও নজরুলের গান মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।”
অনুষ্ঠানে আমিনা বিলকিস ময়না, গুলশান আরা ও নয়ন ভট্টাচার্যসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনের দিনে মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা।
আয়োজকরা বলেন, সংস্কৃতিচর্চা সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।