০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, তিন মাসে মৃত ৫০

হাসপাতালে শিশুদের আইসিইউ না থাকায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করছে চিকিৎসকরা।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jun 2026, 06:21 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:23 PM

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে প্রায় তিন মাসে হাসপাতালটিতে হাম-উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে।

শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মারা যাওয়া শিশুটি ১০ মাস বয়সী। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায়। ২ জুন সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকদের দেওয়া মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহভাজন হামের পাশাপাশি সেপটিক শক, নিউমোনিয়া এবং বাম ফুসফুসে পানি জমার বিষয়টি বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে এ সময়ে কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি। বর্তমানে হাসপাতালে ১০০ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন।

১৭ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৬২ জন হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৯১২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। তবে একই সময়ে ৫০ জনের মৃত্যু হওয়ায় চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মাজহারুল আমিন বলেন, শিশুদের আইসিইউ না থাকায় গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুদের এ সেবা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের জীবন রক্ষায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেক রোগী জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসায় চিকিৎসা কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ মৃত শিশুটির ক্ষেত্রেও হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও সেপটিক শকের মতো জটিলতা ছিল।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের তীব্র জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ বা গুটি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, শিশুদের জন্য আইসিইউ স্থাপনের আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ চলছে বলেন তিনি।