Published : 21 May 2026, 09:59 PM
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়ালের ভেতরে পাট চাষ করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, জমি দান করার বিপরীতে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি। সে ক্ষোভ থেকেই বিদ্যালয়ের আঙিনায় পাট লাগিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।
জমিটি উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা দেওয়ালের ভেতরে হলেও সেটি এখনো বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার খানম।

তিনি বলেন, যে জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে সেটি বিদ্যালয়ের নয়। জমিটি বিদ্যালয়কে দেওয়ার কথা থাকলেও হস্তান্তর প্রক্রিয়া না হওয়ায় সেখানে চাষাবাদ করা হচ্ছে।
জমিটির মালিক আক্কাস আলী খান রতনদিয়া ইউনিয়নের মুরারীখোলা গ্রামের বাসিন্দা।
তার দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার নাতি সজীব খানকে চাকরির আশ্বাস দিয়ে জমি নিয়ে বাউন্ডারি দেয়াল তৈরি করেছে। চাকরি না পাওয়ায় তারা নিজেদের জমিতে পাট চাষ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, “২০২৪ সালে জমি চায়ছিলো আমি দিছলাম না। পরে আমাগে মেম্বার দাবি করলো তহন আমি বললাম জমি দিবো তালি আমার নাতি ছাওয়ালের চাকরি দিতি হবি। সেই চাকরির সিদ্ধান্তই তারা নিছিলো। ওই কতার উপরে জমি দিছি। পরে ও চাকরিও হয় নাই, এ ব্যাপারে কেউ আর কতাও কচ্চে না।”
তার দাবি, “চাকরি দিয়ে দাও জমি নিয়ে নাও।”
পাটক্ষেতের কারণে আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
এদিকে বিদ্যালয়টি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তারা জানিয়েছেন, মাঠের কোণে পাট থাকায় তারা খেলাধুলা করতে ভয় পাচ্ছে। পাটক্ষেতটি ঘন জঙ্গলের মত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ভয়ে স্কুলেও আসছে না।
তারা স্কুল মাঠ থেকে পাটের ক্ষেতে চাষ অপসারণের দাবি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন বলেন, স্কুল মাঠে পাট চাষের কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। বিকেলে স্থানীয়রাও মাঠে খেলতে পারছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
আরেক স্থানীয় শুকুর আলী বলেন, “পাট ক্ষ্যাতের জন্য পোলাপান খেলবার পারে না। জমিতে বল চলে গেলেই চিল্লাপাল্লা করা হয়। স্কুল মাঠে পাট চাষ করাটা ঠিক হয়নি।”
এ বিশয়ে কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “পাট চাষের মূল কারণ হলো জমিসংক্রান্ত জটিলতা। ২০২৪ সালে বাউন্ডারি নির্মাণের সময় জমির মালিকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। তার জমি স্কুলে যুক্ত হলে স্কুল মাঠ সমান হতো।”
বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।