১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় জেল, বেরিয়েই স্ত্রীকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করলেন

মীমাংসার কথা বলে স্ত্রীকে ডেকে আনেন স্বামী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 10:31 PM

Updated : 16 Oct 2026, 10:31 PM

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় সৎ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় জেল খেটে বের হওয়ার পর স্ত্রীকে কুপিয়ে এক হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রতিশোধ নিতে তিনি ওই নারীর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তারাকান্দা ইউনিয়নের গোয়ালকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তারাকান্দা থানার ওসি আব্দুর রাশিদ।

সন্দেহভাজন ওবায়দুল্লাহ সরকার (৪৫) ওই গ্রামের তহুর উদ্দিন সরকারের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ওবায়দুল্লাহ প্রায় ২০ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন। তার তৃতীয় স্ত্রী গাজীপুরের শ্রীপুরের বাসিন্দা। ওই নারী স্বামী মারা যাওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় ওই নারীর আগের সংসারের এক কিশোরী মেয়ে ছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল্লাহ তার স্ত্রীর ওই কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, ওই নারী মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে বিদেশে চলে যান। বিদেশে যাওয়ার প্রায় চার বছর পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। এর মধ্যে ওবায়দুল্লাহ জেল থেকে বের হয়ে আসেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার মীমাংসার কথা বলে ওই নারীকে তারাকান্দার গোয়ালকান্দি গ্রামে নিয়ে আসেন ওবায়দুল্লাহ। সন্ধ্যার পর মামলা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে ওই নারীকে কোপানো হয়। এতে তার এক হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ওবায়দুল্লাহ পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসি আব্দুর রাশিদ বলেন, আহত নারীর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় এলে মামলা নেওয়া হবে। ওবায়দুল্লাহকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।