১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মহেশখালীতে নলকূপ খননের সময় বেরিয়ে এল ‘পকেট গ্যাস’

শিল্পকারখানায় ব্যবহারের প্রাকৃতিক গ্যাস সেটি নয়; বরং এটি ভূগর্ভে জৈব পদার্থ পচে তৈরি এক ধরনের গ্যাস, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2025, 12:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:21 PM

কক্সবাজারের মহেশখালীতে গভীর নলকূপ খননের সময় তীব্র গতিতে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর তেলিপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে মহেশখালীর ইউএনও হেদায়েত উল্যাহ জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পকারখানায় ব্যবহারের প্রাকৃতিক গ্যাস সেটি নয়। বরং এটি ভূগর্ভে জৈব পদার্থ পচে তৈরি এক ধরনের গ্যাস, যাকে ‘পকেট গ্যাস’ বলা হয়ে থাকে। এরকম গ্যাস স্বল্প সময় বের হয় এবং পরবর্তীতে শেষ হয়ে যায়।

নলকূপ খনন কাজের পাম্প অপারেটর নুরুল কবির বলেন, “গভীর নলকূপ খননের সময় প্রায় ১৭৪ ফুট গভীরে পৌঁছালে প্রচণ্ড গতিতে বাতাস বের হতে থাকে। এতে নলকূপ বসানোর লোহার খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়রা পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

ঘটনার পর মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন নুরুল কবির ও অন্যরা।

মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রামপ্রসাদ দাশ বলেন, “গ্যাস নির্গমনের খবর আমরা পেয়েছি। তবে অনুমতি না থাকায় ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানে গ্যাস ছিল কিনা, সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই।”

ইউএনও হেদায়েত উল্যাহ বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাদের মতে এটি ‘পকেট গ্যাস’। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যাবে।”

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ‘পকেট গ্যাস’ হচ্ছে মাটির নিচে ছোট ছোট গহ্বরে আটকে থাকা দাহ্য গ্যাস, যা মূলত জৈব পদার্থের পচন থেকে সৃষ্টি হয়। এটি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। চাপ অনুযায়ী এর নিঃসরণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যেই বের হয়ে যায়। বড় কোনো বিপদ নেই এতে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, “ডোবা, খাল কিংবা সাগর উপকূলের ভরাট এলাকায় ভূগর্ভে জৈব পদার্থ পচে এ ধরনের গ্যাস তৈরি হয়। এটিকে ‘পকেট গ্যাস’ বলা হয়। এর চাপ কখনও বেশি আবার কখনও কম থাকে।

“তবে এটি শিল্পকারখানায় ব্যবহারের মত প্রাকৃতিক গ্যাস নয়। সাধারণত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে এ নিঃসরণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে বড় কোনো বিপদ নেই।”

এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই ইউনিয়নের সিপাহীরপাড়া এলাকায় নলকূপ খননের সময় একইভাবে গ্যাস বের হয়েছিল। পরে বিশেষজ্ঞ দল জানায়, সেটিও ‘পকেট গ্যাস’ ছিল। কয়েকদিন পর সেই গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়।