১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাকসুকে ব্যঙ্গ করে ছাত্রদলের ‘ভাউচার মেলা’

রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটির বেশি টাকা তোলা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি, সংবাদমাধ্যমে এমন খবর আসার পর ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 12:45 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসুর তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পর বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গ করে ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজন করেছে ছাত্রদল।

শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, রাকসু প্রতিনিধিরা বিভিন্ন খাতে অর্থ উত্তোলন করলেও এখনো সেই অর্থের বিল-ভাউচার জমা দেননি। ভাউচার জমা দেওয়ার সময় তারা যাতে ‘নিজেদের মতো করে’ হিসাব মেলাতে পারেন, সেজন্যই প্রতীকী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা থেকে রাকসুর প্রতিনিধিরা ফাঁকা ভাউচার নিয়ে তা পূরণ করে জমা দিতে পারবেন।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমকে ব্যঙ্গ করে আটটি স্টল বসানো হয়েছে। প্রতিটি স্টলে রাকসুর বিভিন্ন কার্যক্রমের আদলে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও লেখা দিয়ে ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। মেলার প্রবেশপথে আয়োজক হিসেবে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ লেখা একটি ব্যানার ঝুলানো হয়।

স্টলগুলোতে রাকসুর ‘ভিপি-জিএসের নাস্তার বিল সম্পর্কিত ভাউচার’, ‘সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার’, ‘সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন বাবদ ভাউচার’, ‘ডেকোরেটর, সাউন্ড ও প্রজেক্টর ভাড়া ভাউচার’, ‘কাওয়ালী দলের ভাউচার’, ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার’, ‘নেপাল ট্যুর ভাউচার’, ‘রাকসু গেম ভাউচার’ ও ‘ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়া ভাউচার’ নামে ব্যানার দেখা যায়।

মেলার প্রবেশপথের ভেতরে টাকার লকারের আদলে একটি ছবি টাঙানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘সবার হিসাব মিলে, আমার হিসাব মিলে না’। এ ছাড়া রাকসু প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গানও সাউন্ডবক্সে বাজানো হয়।

আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “আমাদের এই কর্মসূচি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক, শান্তিপূর্ণ ও প্রতীকী প্রতিবাদ। 

“বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় সোয়া কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সেটিই আমাদের প্রশ্ন। খেলাধুলা, বিতর্ক কিংবা অন্যান্য শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের নামে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে যদি বাস্তবে সেই কার্যক্রম সম্পন্ন না হয়, তাহলে তার স্বচ্ছ হিসাব দিতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এই অর্থ যথাযথ খাতে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত ও বরাদ্দ পাওয়া অর্থ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছামতো ব্যবহারের সুযোগ নেই।

রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটির বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লাখ টাকার হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি, সংবাদমাধ্যমে এমন খবর এসেছে জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল মিঠু বলেন, “এরপর আমরা জানতে পারি, রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাইরে না যায়, সেজন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীরা’ এই আয়োজন করেছে। তাদের কোনো ভুয়া ভাউচার প্রয়োজন হলে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি’ তার ব্যবস্থা করবে- এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।”

বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাকসুর নেতারা এক কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করলেও ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা দেননি।

এটিকে ‘অর্থ আত্মসাৎ’ দাবি করে রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা ছাত্রদল। এ সময় ক্যাম্পাসে মাইকিং করে ‘ভাউচার মেলা’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে।