১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনায় গৃহবধূকে ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপ, মামলা

অ্যাসিডে ওই গৃহবধূর বাম হাত, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে বলে চিকিৎসক জানান।

খুলনায় গৃহবধূকে ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপ, মামলা

গত ১১ জুলাই জমিজমার বিরোধে কয়েকজন প্রতিবেশী এই নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন; পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়।

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Sep 2022, 07:48 PM

Updated : 25 Sep 2022, 07:57 PM

খুলনার কয়রা উপজেলার এক গৃহবধূর শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

থানার ওসি এবিএমএস দোহা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় লিখিত অভিযোগ পাঠান; অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। 

মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয় এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে পুলিশ জানায়। 

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আব্দুল খালেক গাজি, সাইফুল গাজি, আব্দুল মালেক গাজি ও নুর আলম গাজি।

শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি কুচির মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে ‘অ্যাসিড’ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। অ্যাসিডে ওই গৃহবধূর (৩৮) বাম হাত, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে বলে চিকিৎসক জানান। 

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, “ওই নারীর শরীরে কেমিকেল জাতীয় পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে; এটা আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে সেটা অ্যাসিড কি না তা ল্যাব পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।” 

“তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।” 

কয়রা থানার ওসি এবিএমএস দোহা রোববার বলেন, ঘটনার দুই দিন আগে নিরাপত্তা চেয়ে ওই নারীর বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। 

এইচএসসি পরীক্ষার্থী ভুক্তভোগীর বড় ছেলে বলেন, “গত শুক্রবার গভীর রাতে আমার মাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা জানালা দিয়ে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। চিৎকার শুনে আমার ছোট ভাই অন্যদের ফোনে ডেকে এনে মাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।” 

ঘটনার সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, এর আগে গত ১১ জুলাই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকজন প্রতিবেশী তার মাকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে একটি গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়।