Published : 04 Nov 2025, 10:24 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন না পাওয়ায় সাতক্ষীরা সদর ও কালিগঞ্জ উপজেলায় মশাল মিছিল-বিক্ষোভ করেছে বিএনপির দুই নেতার সমর্থকরা।
সোমবার রাতে সাতক্ষীরা সদরে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীমের সমর্থকরা এবং কালিগঞ্জে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকরা এই বিক্ষোভ করেন।
লাবশা ইউনিয়নের বেশ কয়েকবারের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সদর ও দেবহাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-২ আসনে এবং ডা. শহিদুল আলম কালিগঞ্জ-আশাশুনি উপজেলা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন।
পরে সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় ২৩৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের মধ্যে সাতক্ষীরা-২ থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন এ আব্দুর রউফ এবং সাতক্ষীরা-৩ এ কাজী আলাউদ্দিন।
এর প্রতিবাদেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশ।
চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমের সমর্থকরা সাতক্ষীরা শহরের বিনেরপোতা বিসিক মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন।
সদর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিনেরপোতা মাছ বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় হাতে মশাল নিয়ে ‘আব্দুল আলীমের ন্যায্য দাবি মানতে হবে’, ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা চলবে না’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

লাবশা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আবুল হাসান বলেন, “চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের পাশে থেকে রাজনীতি করে আসছেন। তাঁর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মনোনয়ন বঞ্চনা অন্যায় সিদ্ধান্ত।
“আব্দুল আলীম হচ্ছেন সাধারণ মানুষের ভরসা ও তৃণমূলের প্রিয় নেতা। তাঁকে বাদ দিয়ে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া মানে তৃণমূলের অনুভূতির প্রতি অবজ্ঞা।”
তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
এদিকে সোমবার বিকালেই কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকরা।
বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি নলতার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নলতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান পার বলেন, সাতক্ষীরা-৩ এ দলীয় মনোনয়ন বণ্টনে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের প্রতি সুবিচার হয়নি।
এখানে ডা. শহিদুল আলমকে মনোয়নয়ন না দিলে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন এবং এ আসনটি বিএনপি নিশ্চিতভাবে হারাবে বলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
এছাড়া সন্ধ্যার পর কালিগঞ্জের পাশাপাশি আশাশুনির উপজেলার কয়েকটি স্থানেও শহিদুল আলমের সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।