১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে এলপি গ্যাসের ‘সংকট’, দাম বেশি

একজন গ্রাহক বলেছেন, “অতিরিক্ত টাকা হলেই মিলছে গ্যাস। টাকার কাছে গ্যাস সংকট থাকে না।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Feb 2026, 05:11 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

গোপালগঞ্জে রমজানে এলপি গ্যাসের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সুযোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। সরকার এলপি গ্যাসের ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাস ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। 

একজন গ্রাহক বলেছেন, “অতিরিক্ত টাকা হলেই মিলছে গ্যাস। টাকার কাছে গ্যাস সংকট থাকে না।”  

গ্যাস সিলিন্ডারের কয়েকজন ডিলারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানির সিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। রামজান মাসে কোম্পানি সরবরাহ একটু বাড়িয়েছে। পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ডিলারদের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জে অন্তত ১৫ হাজার পরিবার, ১ হাজার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

গ্যাস সিলিন্ডারের ক্রেতা শহরের মান্দারতলা এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম মিয়া বলেন, “গ্যাসের সংকট আছে বলে, আমার কাছে মনে হয় না। অতিরিক্ত টাকা দিলেই গ্যাস পাওয়া যায়। সরকার এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তারপর ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এতে বাজারে গ্যাসের দাম কমার কথা। বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না। এমনকি ভ্যাট প্রত্যাহারের কোনও প্রভাবও পড়েনি বাজারে।” 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছি।”

শহরের পোস্ট অফিস এলাকার বাসিন্দা রাসেল বলেন, “সব দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ১ হাজার ৫৫০ টাকা দিয়ে একটা সিলিন্ডার কিনেছি।” 

শহরের মান্দারতলা পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শামীম খান বলেন, “রমজানের শুরুতে লেবু, শশা, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে গ্যাসের সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে আমার আয়ের সঙ্গে ব্যয় সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এখন টিকে থাকাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।”

বসুন্ধরা কোম্পানির ডিলার লাম এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী সাহারা ইয়াসমিন লিয়া বলেন, “কোম্পানির সিডিউল অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আমাদের চাহিদা মত গ্যাস সরবরাহ করা হয় না। রামজান মাসে কোম্পানি সরবরাহ সামান্য বাড়িয়েছে। কম সিলিন্ডার পরিবহনে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 

“আমরা প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস দূরত্ব ভেদে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের কাছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি।” 

টিএমএসএস এলপি গ্যাসের এরিয়া ম্যানেজার রাকিব হাসান বলেন, “আমাদের গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কোম্পানির খালি সিলিন্ডার এবং সরবরাহ চেইন সঠিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ফ্যাক্টারিতে গাড়ির ব্যাপক সিরিয়াল রয়েছে। এ কারণে সঠিক সময়ে ডিলারের কাছে গ্যাস সরবরাহ করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।”  

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনিম বলেন, “এ ব্যাপারে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। এ ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”