Published : 09 Nov 2022, 04:53 PM
চার বছর বন্ধের পর মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া নৌ-পথের বহু প্রতীক্ষিত ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। এতে যাত্রীদের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানে উত্তাল মেঘনা পারি দিতে হবে না।
বুধবার দুপুরে ফেরি চলাচল উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।
এরপর ফেরি ‘স্বর্ণচাপা' গজারিয়ার কাজীপুরা ঘাট থেকে রওনা দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যেই মুন্সীগঞ্জ প্রান্তের চরকিশোরীগঞ্জ প্রান্তে পৌঁছায়। প্রথম যাত্রায় ফেরিতে চারটি যানবাহন পারপার করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালের ৩ জুন মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়ার মধ্যে মেঘনা নদীতে এই ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু যানবাহন স্বল্পতার কারণে কিছুদিন পরেই তা বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি।
স্থানীয়রা জানান, ফেরি না থাকার কারণে মুন্সীগঞ্জের মানুষ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও হয়ে গজারিয়ায় যেতেন। নাহলে তাদেরকে বাধ্য হয়েই ছোট ছোট নৌযানে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে হতো। মেঘনা নদীতে বড় বড় মালবাহী কার্গো জাহাজ, বাল্কহেড, ট্রলার চলাচল করে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। ফেরি চালু হওয়ায় একদিকে সময় বাঁচবে অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি থাকবে না।
ফেরি চালু হওয়ার কারণে গজারিয়া উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলো। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েরও দূরত্ব কমবে।
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কারিগরি ও প্রশাসন) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “দেড় কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে এখন তিনটি ফেরি চলবে। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন পারাপার করা হবে। এতে গাজারিয়ার সঙ্গে দূরত্ব কমবে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার।”
ফেরি চলাচল উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল আবেদিন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী, গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।