কারমাইকেল কলেজে ‘শাটডাউন’ অব্যাহত, রেল-সড়ক অবরোধের হুমকি
রোববার থেকে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন।
৩৭ দফা দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন।
নতুন বিভাগ চালু, আবাসিক হল নির্মাণ, যাতায়াতের জন্য বাস সংস্থান, নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বক্স স্থাপনসহ নানা দাবিতে বুধবার থেকে রেল ও সড়কপথ অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান গেইট বন্ধ করে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় তারা ঘোষণা দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ক্যাম্পাসে না আসবেন, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।
তৃতীয় দিনেও ক্যাম্পাস এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত একটি শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কারমাইকেল কলেজে প্রয়োজনীয় বিভাগ নেই, নেই আবাসিক হল, যাতায়াতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ বক্স পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সমস্যার কথা বলে আসলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বকুল রায় বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কলেজের নানাবিধ সমস্যা ও সংকটের কথা প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু আশ্বাস দেওয়া হয় কিন্তু বাস্তবায়নে উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এ কারণে বাধ্য হয়েই সকল শিক্ষার্থী মিলে আন্দোলনে নেমেছি।”
কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বোরহান বলেন, “এই আন্দোলন কারো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল কিংবা স্বার্থে হচ্ছে না। এটি কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে হচ্ছে। শতবর্ষী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে পিছিয়ে রেখে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।”
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কলেজের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা কলেজের প্রধান প্রবেশসহ সকল বিভাগ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনকে ২৫ দফা এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১২ দফা দাবি জানিয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এরই মধ্যে লিখিত আকারে সব সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। আমরাও চাই দ্রুত দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হোক এবং শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসুক।”
রোববার থেকে কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন।
