২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় গ্রাম আদালতে এক বছরে প্রায় ২ হাজার মামলা নিষ্পত্তি

আবেদনকারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ নারী, যাদের ৪৪৪টি এবং ৭৫ শতাংশ পুরুষের ১ হাজার ৩৩২টি মামলা ছিল।

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Sep 2025, 01:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:21 PM

নেত্রকোণা জেলার গ্রাম আদালতগুলোয় গত এক বছরে ১ হাজার ৮২৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জেলার ৮৬ ইউনিয়ন পরিষদে থাকা এসব আদালতে নিস্পত্তি হওয়া মামলার মধ্যে পারিবারিক, দেওয়ানী ও ফৌজদারি অপরাধ বিষয়ক মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় এসব তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আরিফুল ইসলাম সরদার। 

‘জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক এই সভায় তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জেলার গ্রাম আদালতে ১ হাজার ৯৭৬টি আবেদন করেন সুবিধা বঞ্চিত বিচারপ্রার্থী মানুষ। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মামলা নিস্পত্তি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবেদনকারীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ নারীর ৪৪৪টি ও ৭৫ শতাংশ পুরুষের ১ হাজার ৩৩২টি মামলা ছিল। আদালতের বিচারপ্রার্থীরা মোট ২ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, গ্রামাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত বেশিরভাগ মানুষ শহরে গিয়ে আদালতে বিচার প্রার্থী হতে পারেন না। এক্ষেত্রে গ্রাম আদালতকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। 

এছাড়া গ্রাম আদালতের ক্ষমতার আওতায় যেসব বিচার করা সম্ভব তা নিরপেক্ষ ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি। 

সভায় এভিসিবি-৩ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ ও মো. আতিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রামাঞ্চলের বিশেষ করে গরিব মানুষেরা সমস্যা-অভিযোগ নিয়ে গ্রাম আদালতে বেশি আসেন। বিচারপ্রার্থীদের বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় বিনা খরচে তার সমাধান পাচ্ছেন। এতে করে তারা উপকৃত হচ্ছেন। তাছাড়া ছোট ছোট বিষয়গুলো নিয়ে এখানেই মামলা করে বিচার পাওয়ায় উচ্চ আদালতে মামলার জট কম হচ্ছে। 

কলমাকান্দার লেঙুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, গ্রাম আদালতের পেশকার নিয়োগ হচ্ছে না। এতে করে আদালতের বিচারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত পেশকার নিয়োগ দেওয়া দরকার।

এ অনুষ্ঠানে গ্রাম আদালতের বিচার কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করায় জেলার তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন জারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, দ্বিতীয় পুরস্কার পান লেঙুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আর তৃতীয় পুরস্কার পান বিষকাকুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম।

তাছাড়া আদালত পরিচালনায় শ্রেষ্ঠ উপজেলার পুরস্কার পায় জেলার হাওরাঞ্চলের উপজেলা খালিয়াজুরী।