Published : 28 Jul 2025, 07:45 PM
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বালুমহাল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন, এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালীপুরা এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম খান জানান।
নিহত মান্নান নয়ন ওরফে ‘শুটার মান্নান’ (৪৩) উপজেলার ইমামপুরের যষ্টিতলা গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ বেপারীর ছেলে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে তার সহযোগী ‘হৃদয় বাঘ’ (২৫) সহ চারজন। আহতদের গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিহত মান্নানের স্ত্রী সুমি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ১১ বছরের একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।
“হোগলাকান্দী গ্রামের লালুর সঙ্গে আমার স্বামীর বিরোধ ছিল। কয়েক মাস ধরে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল। লালু তার গ্রুপের লোকজন নিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে।”
গজারিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “মেঘনা নদীতে সংঘর্ষের সময় মান্নান নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান একটি ট্রলার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরনে একটি হাফ টিসার্ট লুঙ্গি পড়া ছিলো।”
স্থানীয়রা জানান, সকাল ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের পর কয়েক ঘণ্টা ধরে মান্নানের মরদেহসহ ট্রলারটি মেঘনায় ভাসছিল। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “কালিপুরা এলাকায় একটি ট্রলারে থাকা মান্নান ও তার সহযোগীদের লক্ষ্য করে গুলি করে প্রতিপক্ষ জলদস্যু পিয়াস-নয়ন গ্রুপ। এ সময় মান্নান গ্রুপও পাল্টা গুলি ছুড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মান্নান ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় মান্নানের সহযোগী হৃদয় বাঘ। অন্য আরও দুই সহযোগী মেঘনায় লাফিয়ে পরে। কিন্তু তাদের ভাগ্যে কি হয়েছে তা জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, ১৬ জুলাই ষোলআনী বালুমহালে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে তিনজন চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনায় বালুমহালের ক্যাশিয়ার জান্নাত হোসেন বাদী হয়ে হোগলাকান্দি গ্রামের ‘হৃদয় বাঘ’কে এক নম্বর আসামি করে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ‘হৃদয় বাঘ’ ১৭ জুলাই রাতে এলাকায় ফিরে এসে ‘শুটার মান্নান’সহ তার অনুসারীদের নিয়ে মহড়া দেয়। হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার জেরে সোমবারে ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে প্রায় ১০ মাসে সরকারি হিসেবে বালু উত্তোলন নিয়ে আটটি সহিংসতায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে বহু মানুষ।