মেঘ কেটে দেখা মিলেছে রোদের, স্বাভাবিক হচ্ছে বরিশাল
ফিরতে শুরু করেছে বিদ্যুৎ।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাব কেটে স্বাভাবিক হচ্ছে বরিশাল। মেঘ কেটে মঙ্গলবার সকাল থেকে রৌদ্রের দেখা মিলেছে। তুলে নেওয়া হয়েছে নৌ-যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা।
সোমবার রাতে ঝড় উপকূল অতিক্রম করার পর থেকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির দাপট কমে যায়। তারপরই বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষ বাড়িঘরে ফিরেছেন বলে জানায় জেলা প্রশাসন।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আব্দুল কুদ্দুস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মঙ্গলবার সকালে বলেন, সিত্রাং এর প্রভাব কেটে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের পর ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাই এখনও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সিত্রাং এর প্রভাবে বরিশাল নগরীসহ জেলায় ৩২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মেঘ কেটে সকাল ৯টার পর রৌদ্রের দেখা মিলেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সকাল ৮টার পর বরিশাল-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ নৌ-পথের লঞ্চসহ নদীপথে সব ধরনের নৌ-যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ পথের লঞ্চ, স্প্রিডবোট ও খেয়া চলাচল শুরু হয়েছে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সার্ভেয়ার মশিউল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখনও কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সকাল ৮টায় কীর্তনখোলা নদীর পানি ২.৮৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়েছে। এ নদীর বিপৎসীমা হলো ২.৫৫ মিটার।
বৃষ্টি ও নদীর পানি বেশি থাকায় নগরীর বিভিন্ন সড়কসহ নিম্নাঞ্চলের পানি আটকে পড়ে রয়েছে। এতে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার আওতাধীন বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, পাঁচ উপজেলায় মোট তিন লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত ৩০ হাজার গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের তার ছিঁড়ে পড়েছে। সেগুলো মেরামতের কাজ চলছে। তারের উপর পড়ে থাকা গাছ এবং ডাল অপসারণের কাজ চলছে। এই কাজ শেষে সব গ্রাহকের সংযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা।
তবে এগুলো মেরামতে কত সময় লাগতে পারে তা নিশ্চিত নন তিনি।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মৃদুল কান্তি চাকমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার অধীনে বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, বানারীপাড়া, উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলার মোট তিন লাখ ১০৪ জন গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
তিনি জানান, তার অধীনে ১২টি সাব-স্টেশনের মধ্যে তিনটির আংশিক চালু হয়েছে। অন্যগুলো দ্রুত চালু করার চেষ্টা চলছে।
বরিশাল নগরীর ২৩টি বিদ্যুৎ ফিডার সকালে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ টি এম তারিকুল ইসলাম।
বরিশাল জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল মারুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ ফিরতে শুরু করেছেন। জেলার ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮৭৯ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। গবাদিপশু ছিলো চার হাজার ৯২৯টি।
