আশুলিয়ায় সিলিন্ডারবোঝাই গাড়িতে এমন বিস্ফোরণ কীভাবে? যা বলছে ফায়ার সার্ভিস
গ্যাস সরবরাহের এ প্রক্রিয়াকে ‘পুরোপুরি অবৈধ’ বলেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্প মালিক।
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীটি গ্রুপের ‘এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ এর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি সিলিন্ডারবাহী ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে আগুন এবং পরে প্রকট শব্দে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে।
গাড়িতে সিলিন্ডার এনে এভাবে কারখানায় গ্যাস সরবরাহের প্রক্রিয়াকে ‘পুরোপুরি অবৈধ’ বলেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও পেট্রোল পাম্প মালিক।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সোমবার সকাল থেকে ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এতে আগুনের সূত্রপাত ও বিস্ফোরণের কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বিকালে বলেন, “কারখানাটিতে তিতাসের গ্যাসের সংযোগ ছিল। কিন্তু লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারবাহী লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এসব লরিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে চার নম্বর লরিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সিলিন্ডারবাহী গাড়ির ওপরের অংশ এবং সিলিন্ডারের খণ্ডাংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একটি অংশ ছিটকে পাশের ১০তলা ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে। সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ লাইনেও আগুন ধরে যায়।”
ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্যমতে, কারখানা প্রাঙ্গণে দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে এরকম সাত থেকে আটটি সিলিন্ডাবাহী গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। প্রতিটি গাড়িতে ২৫-৩০টি সিএনজি সিলিন্ডার থাকে। কারখানায় সরাসরি এই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস আনলোড করা হয়। দাঁড়িয়ে থাকা চার নম্বর গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। কারখানা প্রাঙ্গণে থাকা সাত-আটটি সিলিন্ডারবাহী গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে একজন চালকের আসনে বাসা অবস্থাতেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। সবার শরীর ভয়ানকভাবে পুড়ে গেছে।
বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের ছিটকে আসা অংশের আঘাতে রাস্তার কাপড়ের দোকানি মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) ঘটনাস্থলেই মারা যান।
মধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামের আরও একজন মারা যান। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে।
আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহতদের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক, পথচারী, আনসার সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
‘এটা ছিল অবৈধ পদ্ধতি’
ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারে সিএনজি ভরে কারখানায় গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি অবৈধ কিন্তু সচরাচর হয়। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে শুধু যে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তাই না; বরং অনেক জেলা শহরে অটোরিকশায়ও সিএনজি সরবরাহ করা হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এটি বন্ধ হয়নি।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে আটটি কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে প্রচুর গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পান তারা। সিলিন্ডারগুলো থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুনের তীব্রতা বাড়ছিল। আগুন যাতে আশপাশে ছড়িয়ে না পড়ে, বিশেষ করে পাশের এফএনএফ গার্মেন্টসের ভবনে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে তারা কাজ শুরু করেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে অনেকগুলো গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থাকায় ঝুঁকির মাত্রা বেশি ছিল। কোনো কারণে যদি অন্য কোনো গাড়িতে একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হত, তাহলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সফলভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
গাড়ির ভেতরে একসঙ্গে অনেকগুলো সিএনজি সিলিন্ডার ব্যবহার প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, এভাবে সিলিন্ডার ব্যবহারের কোনো বিধান আছে বলে তার জানা নেই। বিষয়টি তাদের দেখভালের আওতার মধ্যে রয়েছে।
গাড়ির ভেতরে এভাবে সিলিন্ডার রেখে ব্যবহার করাটা ‘কিছুটা আড়ালে করা হয়’ বলে জানান তিনি।
অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, “সিলিন্ডারে করে উনারা যেভাবে কারখানায় সিএনজি আনেন এটা পুরোপুরি একটি অবৈধ কাজ।”
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন বলছেন, “এগুলো অবৈধ, তাই আমাদের অ্যাসোসিয়েশন থেকে এগুলো নিষেধ করাই আছে। তবে এটা রোধ করা যাবে না। কারখানাগুলোর জেনারেটর, বয়লারসহ বেশ কিছু প্রয়োজনে এভাবে সিএনজি নিয়ে ব্যবহার হয়। কারখানা বন্ধ থাকলে তো সবারই মাথা খারাপ হয়।
“আমি মনে করি, আনঅফিসিয়ালি এটা সরকার জানে। যেহেতু বিষয়টি কারখানার জন্য প্রয়োজনীয়; তাই হয়তো কিছু বলেও না।”
‘দুমড়ে-মুচড়ে গাড়িগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে’
আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা থেকে কিছুটা সামনে হেঁটে এগোলেই বাতাসজুড়ে পোড়া প্লাস্টিক, লোহা ও গ্যাসের কটূ গন্ধ নাকে ভেসে আসে। রোববার সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর সোমবার সকালে প্রীটি গ্রুপের কারখানা এলাকার পরিবেশ যেন পুরোপুরি নিস্তব্ধ, থমথমে। কারখানার সামনের রাস্তায় পড়ে রয়েছে অসংখ্য কাচের টুকরো আর চারপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দোকানগুলো সাক্ষী দিচ্ছে সেই বিস্ফোরণের।
কারখানার সীমানা প্রাচীরের ভেতরে কর্তৃপক্ষ প্রবেশ করতে না দিলেও বাইরে থেকে চোখে পড়ে ধ্বংসস্তূপ। সিলিন্ডার নামানো বা বহনের কাজে ব্যবহৃত বিশেষ কভার্ড ভ্যান ও লরিগুলো দুমড়ে-মুচড়ে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আগুনে পাঁচ থেকে ছয়টি গাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। কারখানা চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা ও বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের ধাতব অংশ।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রীটি কম্পোজিটের নিজস্ব ভবনের থাই গ্লাস ও কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শুধু কারখানা প্রাঙ্গণই নয়, প্রায় ৫০ মিটার দূরে অবস্থিত ‘এফএনএফ ট্রেন্ড ফ্যাশন লিমিটেড’সহ আশপাশের একাধিক বহুতল ভবনের জানালার কাঁচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশের একাধিক টিনশেড দোকান ও কাঁচাবাজারের ছাউনি দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে আছে। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারীরাও বিকট শব্দে ছিটকে আসা খণ্ডাংশের আঘাতে আহত হয়েছেন।
কারখানার ফটকে অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে দাঁড়ানো আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যখন বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে তখন তিনি এই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন। আতঙ্কে জীবন বাঁচাতে তিনি নিজেও দৌড়াতে থাকেন।
তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ ঘটছে। পরে জানতে পারি, কারখানার ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটছে। সকালে তাই ঘটনাস্থলে দেখতে এসেঝি, আসলে এখানে কী ঘটেছিল?”
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, “এখানকার পাঁচটি কারখানায় প্রায় চার হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে নিহতদের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসার খরচ কর্তৃপক্ষের বহন করতে হবে।
“আর মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার এবং এটা মনিটরিংয়ের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে আইনের আওতার আনতে হবে।”
‘ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহ শনাক্ত কঠিন’
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহগুলো পুড়ে গেছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলমান রয়েছে।
অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, মরদেহগুলো যেভাবে পুড়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া এগুলো শনাক্ত করা যাবে না।
চার সদস্যের তদন্ত কমিটি
ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুল জামানকে সভাপতি এবং সাভার অঞ্চলের জোন কমান্ডার হাফিজুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন ও পরিদর্শক অলিয়ুর রহমান।
কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন বলেন, কত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এটি পরে জানাতে পারব।
এদিকে সন্ধ্যায় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিকভাবেও বিষয়টি নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটিতে ইউএনও, সাভার থানার ওসি, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা থাকবেন।
৫ কারখানায় বন্ধ ঘোষণা
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রীটি গ্রুপের পাঁচটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সকালে কারখানার ফটকে হাতে লেখা বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার প্রীটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীটি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও এস সুহী ইন্ড্রাসট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড বন্ধ থাকবে।
তবে কারখানা বন্ধ রাখার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নোটিশে বলা হয়নি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রীটি গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলামকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
দুপুরে কারখানার সামনে গেলে কোনো সংবাদকর্মীকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কথা বলতে চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে কারখানার একজন কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতির সফট কপি দেন। কিন্তু এতে কারও নাম, স্বাক্ষর, যোগাযোগ নম্বর কিছুই নেই।
বেনামি ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কারখানার মূল প্রাঙ্গণ ও উৎপাদন স্থাপনা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক একটি স্থাপনা কারখানার সম্মুখভাগে অবস্থিত এফএনএফ ইউটিলিটি বিল্ডিং-সংলগ্ন এলাকায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এতে দাবি করা হয়, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাইরের ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফরমারে সৃষ্ট স্পার্ক সংলগ্ন এলপিজি সঞ্চালন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুন ওই এলাকায় অবস্থানরত কয়েকটি লোডেড কার্গো ও পরিবহনের অপেক্ষায় থাকা কিছু বহিরাগত সামগ্রীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে।”
এতে বলা হয়, “ঘটনাস্থলটি আমাদের মূল কারখানা ও উৎপাদন স্থাপনা থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে অবস্থিত হওয়ায় কারখানার মূল ভবন, উৎপাদন কার্যক্রম, সামগ্রিক রপ্তানি পণ্য এবং যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি।”
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। বলেছে, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
‘নিজেদের অপরাধ ঢাকছে কারখানা’
এদিকে, কারাখান কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে ১১ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফরমারে সৃষ্ট স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মহাব্যবস্থাপক আখতারুজ্জামান লস্কর বলেন, “কারখানা কর্তৃপক্ষের কাভার্ড ভ্যানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে বিদ্যুতের লাইনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নাই। কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এখন পল্লী বিদ্যুতের কথা মিডিয়াকে বলছে।”
ক্ষতিপূরণ দাবি
এদিকে বিকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের উদ্যোগে মানববন্ধন ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা অংশ নেন।
শ্রমিক নেতারা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানান।
