Published : 28 Apr 2026, 01:24 PM
এবার মাটি খুড়ে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় মারা যাওয়া হাতিটির মাংস চুরির চেষ্টা করেছে একদল মানুষ।
সোমবার রাত ১টার দিকে রাঙামাটির লংগদুর ভাসান্যাদামে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) লিডার জয়নাল।
অসুস্থ হয়ে শনিবার রাতে মারা যাওয়া একটি এশিয়ান বন্যহাতিকে সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
জয়নাল বলেন, “রাতে প্রায় ২৫ জনের একটি দল কোদাল, দা নিয়ে সেখানে হানা দেয়। তারা কোদাল দিয়ে হাতিকে চাপা দেওয়া মাটি খুঁড়ে মাংস নেওয়ার চেষ্টা করে।
“তবে আমাদের দুজন লোক সেখানে মৃত হাতির পাহারায় ছিল। তারা বিষয়টি টের পেয়ে আমাকে খবর দিলে আমিসহ কয়েকজন সেখানে যাই। তখন আমাদের প্রতিরোধের মুখে মাংস চুরির চেষ্টা করা দলটি পালিয়ে যায়।”
বনবিভাগের তথ্যমতে, আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী হাতিটি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। ২০২৪ সালে প্রথম অসুস্থ হলে বনবিভাগ এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে।
চলতি বছরেও দুই দফায় অসুস্থ হলে তাকে পুনরায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। এটি ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ বয়স্ক হাতিগুলোর একটি ছিল।
রোববার সকালে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা হাতিটির মরদেহ দেখতে পেয়ে বনবিভাগকে খবর দেন। পরে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ পরিদর্শন করেন।
সে সময় মৃত হাতিটির পাশে শোক জানাতে অবস্থান করছিল স্ত্রী হাতিটি। স্ত্রী হাতিটি সরে গেলে ময়নাতদন্ত ও হাতিটিকে দাফন করার কথা জানিয়েছিল বনবিভাগ।
কিন্তু তার আগেই রোববার রাতে মৃত হাতিটির শুড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে যায় দুবৃর্ত্তরা। এই নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
ধারণা করা হচ্ছে রাতে বৃষ্টির সময় সঙ্গে থাকা স্ত্রী হাতিটা সরে যাওয়ার পর দুবৃর্ত্তরা মাংসের লোভে মৃত হাতিটির পায়ের অংশের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে।
বনবিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, “হাতির মাংস যাতে কেউ চুরি করে খেতে না পারে সেজন্য হাতির শরীরে ব্লিচিং পাউডার এবং কেরোসিন তেল দিয়ে হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে দুর্গমতার সুযোগে আবারো মাংস চুরির চেষ্টা চালাতে পারে বলেও শঙ্কার কথাও জানান তিনি।
আগের সংবাদ
'মাংসের লোভে' রাঙামাটির মৃত সেই হাতিটির শুঁড়-পা কেটে নেওয়া হল