Published : 02 Oct 2025, 10:48 PM
সন্দেহভাজনদের মোবাইলের ম্যাসেজ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার তিন মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন বোনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে চারজন সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান জেলা ডিবির ওসি একরামুল হোসাইন।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ভিকটিমের আপন বোন রেশমা খাতুন (২৫), প্রতিবেশী হাবিজা খাতুন (৪২), ভদ্রঘাট এসিআই মিলের নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম মোস্তফা (৫৫), সুমন চন্দ্র ভৌমিক (২৮), তপু সরকার (১৯) এবং শফিকুল ইসলাম (৪০)।
নিহত শামীম ইসলাম (২৮) সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি স্বজনদের।
ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, ২ জুলাই শামীম গোসলের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। দুই দিন পর ৪ জুলাই ভদ্রঘাট এলাকায় এসিআই মিলের ভেতর পুকুর পাড় থেকে শামীমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় শামীমের বাবা অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি। তদন্তের এক পর্যায়ে সন্দেহভাজন একজনের প্রেমিকাকে দেওয়া ম্যাসেজ থেকে হত্যাকাণ্ডের ক্লু পাওয়া যায়।
পরে ২৯ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ি থেকে এসিআই মিলের নিরাপত্তা প্রহরী গোলাম মোস্তফা, সুমন চন্দ্র ভৌমিক, তপু সরকার ও শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন শামীমের বোন রেশমা খাতুন ও প্রতিবেশী হাবিজা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি একরামুল বলেন, “শামীমের বোন রেশমা এসিআই মিলে চাকরির পাশাপাশি অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এক রাতে রেশমার সঙ্গে এক নিরাপত্তা কর্মীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে শামীম। এ নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
“এক পর্যায়ে রেশমা ও নিরাপত্তা প্রহরীদের নিয়ে শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর মধ্যে একদিন রাতে চুরি করতে এসিআই মিলে প্রবেশ করেন শামীম। তখন মিলের কয়েকজন প্রহরী তাকে ধরে প্রতিবেশী হাবিজার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে রেশমাকে ডাকা হয়।
“পরে ওই বাড়িতে শামীমকে ছুরিকাঘাত ও শরীরে এডিস ঢেলে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ মিলের ভেতরে নিয়ে কচুরিপানা যুক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।”
ওসি একরামুল বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা, সুমন চন্দ্র ভৌমিক ও তপু সরকার ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর রেশমা খাতুনও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের বর্তমানে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা।