Published : 29 Jan 2026, 03:02 PM
ফেনীতে স্কুল ছাত্র আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে অপহরণের পর হত্যায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ. এন. এম মোরশেদ খান এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে আশরাফ হোসেন চৌধুরী তুষার (২০), ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মোবারক হোসেন ওরফে ওয়াসি (২০) ও লক্ষীপুর জেলার সদর থানার কামালপুর এলাকার দুদুমিয়া বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে ওমর ফারুক রিফাত (২০)।
নিহত ১০ বছর বয়সী আহনাফ আল মাঈন ওরফে নাশিত ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। সে ফেনী গ্রামার স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার নথির বরাতে পিপি শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কের লাইট হাউজে কোচিং শেষ করে স্থানীয় বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় স্কুল শিক্ষার্থী নাশিত।
নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে সদর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ এলাকার নিয়ে যায়। পরে নাশিতকে অচেতন করে ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনার চারদিন পর সদর উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ রেললাইনের পাশের ডোবা থেকে নাশিতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা।
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার তুষার, ওয়াসি ও রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তারা জানান, টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় ও ছেড়ে দিলে ফেঁসে যাওয়ায় আশঙ্কায় নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। পরে লাশ গুম করতে ডোবায় ফেলে দেয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই সাত্তার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২৫ মে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ৩০ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। পরে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলে সাক্ষ্যগ্রহণ। ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যসহ সব কার্যক্রম শেষে রায়ের জন্য সময় নির্ধারণ করে আদালত।
পরে বৃহস্পতিবার রায়ে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও প্রধান আসামি আশরাফ ও তার সহযোগী মোবারককে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৮ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া অপর আসামি ওমর ফারুককে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায় এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, রায় ঘোষণার পরপরই আদালত থেকে আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে দ্রুত জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পুরানো খবর
'হত্যার পর স্কুলব্যাগে পাথর ভরে ডোবায় ফেলা হয় স্কুলছাত্রের লাশ'