Published : 23 Nov 2025, 01:14 PM
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরে জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে মাত্র একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করায় নারী উন্নয়ন, ভাতা বিতরণ, প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং মাঠ পর্যায়ের নিয়মিত কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী একাই পুরো দপ্তর সামলাচ্ছেন। সহকারী কর্মচারী না থাকায় সব কাজ তাকেই একা সামলাতে হয়।
এজন্য ওই কার্যালয়ের নিয়মিত কাজগুলো ঠিকমতো এগোতে পারছে না; বেশিরভাগ কাজই ধীরগতিতে চলছে বা আটকে যাচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা লোকজনের অভিযোগ, সপ্তাহের সোম ও বুধবার অফিসে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। সেদিন গুলোতে তাই সেবা না পেয়ে ফিরে আসতে হয়। কোন কোন সপ্তাহে দুদিনের দিনের বেশি অফিসে তালা ঝুলে থাকে।
শ্রীময়ী বাগচী বলছেন, অফিস খোলা, বন্ধ, কাগজপত্র ও মাঠ পর্যায়সহ সব কাজই এখন তাকে একা করতে হয়। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।
তবে এ সংকট দ্রুতই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ।
ওই কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অফিস সহকারী রশিদ গত ২৮ সেপ্টেম্বর এবং একমাত্র পিয়ন আমিনুল ইসলাম গত ৬ ফেব্রুয়ারি বদলি হয়ে গেলে দুটো পদই ফাঁকা হয়ে যায়। এরপর মুকসুদপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের অফিস সহকারী প্রভাতী রানীকে সপ্তাহে দুদিন টুঙ্গিপাড়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাজের গতি ফেরেনি।
বর্তমানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী একাই পুরো দপ্তর সামলাচ্ছেন। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল যোগদানের পর থেকে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। ফলে সপ্তাহের কমপক্ষে তিন দিন তাকে কোটালীপাড়ায় থাকতে হয়। ওই তিন দিন টুঙ্গিপাড়ার দপ্তরে কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
উপকারভোগী রোকেয়া বেগম বলেন, “আমি সাধারণত সোমবার ও বুধবারে সময় পাই। তখন কাজে এসে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। ম্যাডাম কোটালীপাড়ায় থাকেন, এ অফিসে আর কেউ নেই।
“তাই কবে অফিস বন্ধ থাকে সে তথ্যও জানতে পারি না। দ্রুত নতুন জনবল দিলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।”
টুঙ্গিপাড়া গ্রামের নারী উদ্যোক্তা দিলরুবা খানম বলেন, “জনবল সংকটে নারী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ভাতা বিতরণ, উদ্যোক্তা সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
“আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে পিছিয়ে পড়ছি। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ চাই।”
সালমা বেগম নামের আরেক উপকারভোগী বলেন, “অনেক সময় অফিসে এসে কর্মকর্তাকে পাই না। যেদিন ম্যাডাম থাকেন, খুব সহযোগিতা করেন। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে সেবা পেতে দেরি হয়।”
সরেজমিনে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পুরো দপ্তর শ্রীময়ী বাগচীকে একা সামলাতে দেখা গেছে।
শ্রীময়ী বলেন, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল এ অফিসে যোগ দেন। পাশাপাশি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোটালীপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সপ্তাহে দুদিন তাকে কোটালীপাড়ায় থাকতে হয়।
এ সময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তর বন্ধ থাকে। তাই উপকারভোগীরা কোনো সেবা পান না বলে জানান তিনি।
জনবল সংকটের বিষয়ে শ্রীময়ী বলেন, “এমএলএসএস ও অফিস সহকারী দুজনই বদলি হয়ে গেছেন। সপ্তাহে দুই দিন অতিরিক্ত জনবল পেলেও কাজের চাপ কমে না।
“অফিস খোলা, বন্ধ, কাগজপত্র, মাঠ পর্যায়ের কাজ সবই এখন আমার একার দায়িত্ব। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমি সোমবার ও বুধবার কোটালীপাড়া উপজেলায় অফিস করি। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইমার্জেন্সি থাকলে এক দিনে দুই উপজেলায়ও অফিস করতে হয়।
“কোনো কোনো সপ্তাহে কোটালীপাড়ায় বেশি অফিস করতে হয়। তখন টুঙ্গিপাড়া অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেবা গ্রহীতাদের সুবিধার জন্য টুঙ্গিপাড়া অফিসে লোকবল নিয়োগ করার জন্য জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (ডিডি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ইউএনও ফারজানা আক্তার বলেন, “মহিলা বিষয়ক দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হবে।