Published : 16 May 2026, 08:08 PM
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় গো খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। চিঠিতে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন খামারিরা।
চার দিনে অন্তত ১৫টি বাড়িতে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি দুটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে।
ঈদের আগে এমন ঘটনায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ডাকাতি রোধে গ্রামবাসী রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। তবে এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গো-খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে।
চিচিঠিতে লেখা, “কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, গো-খামারের দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি, রঘু ডাকাত।”
একই গ্রামের কৃষকের আবু সাঈদের বাড়িতে গরু ডাকাতি করতে ব্যর্থ হয়ে তার মেয়ের নামে রক্তমাখা চিঠিতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে লেখা, ‘আপনার মেয়ের জন্য আজকে বেঁচে গেলেন, ভাইবেন না এরপর বাঁচবেন। এই বছরে প্রথমবার মিস হল, ঐ ম্যাডামের জন্য, দেখে লেব, মেয়ে মানুষের এত সাহস ভালো না।
‘কালকে রাতে বাঁচতে চাইলে দরজা খোলা রাখবেন। না রাখলে জিন্দা লাশ বানিয়ে দিব। ইতি, রঘু ডাকাত। কোড নং ০৬।’ অন্য চিঠিগুলোতেও বিভিন্ন কোড নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একই এলাকার খামারি আমজাদ হোসেনের বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে একটি ষাঁড় গরু ও শোকেজের লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গহনা লুটের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন বলেন, “সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখি আমার স্ত্রী সারা খাতুন অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। স্প্রের গন্ধের কারণে কিছুক্ষণের ব্যবধানে আমিও অচেতন হয়ে পড়ি।
“এরপর গভীর রাতে জ্ঞান ফিরে দেখি, শোকেজের লকার ভেঙে এক লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ ভরি রূপার গহনাসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল এবং গোয়ালের একটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা।”
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
অপর ভুক্তভোগী আবু হোসেন বলেন, ১৫ দিন আগে ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে ছিটিয়ে বাড়ির সবাইকে অচেতন করে গোয়াল ঘর থেকে একটি বড় ষাঁড় গরু চুরি করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
“সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে”, বলেন তিনি।
শনিবার বিকালে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শোনার পর থেকে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এর মধ্যে চুরির ঘটনায় একজনের অভিযোগ পেয়েছেন তিনি।