১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাস বন্ধ

“শ্রমিকদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের উত্তেজনা হলে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2025, 06:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

ফরিদপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এতে অন্তত দশ শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর সাধারণ শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের গোয়ালচামট এলাকার পৌর বাস টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

সাধারণ শ্রমিকদের দাবি, বৈধভাবে সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। 

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “শ্রমিকদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের উত্তেজনা হলে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

তবে ওসি বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানালেও সরেজমিনে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের একটি পক্ষ অভিযোগ করে, অধিকাংশ ভোটারকে বাদ দিয়ে গোপনে নির্বাচন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মানববন্ধন শুরুর কিছুক্ষণ পর অপরপক্ষ এসে ব্যানার কেড়ে নিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে উপস্থিত হয় এবং বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ ঘটনার পর সাধারণ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে বেলা ১২টা থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারাও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাস টার্মিনালে অবস্থান নেন। বেলা ২টার দিকে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে রুপ নেয়। এ সময় ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়। আহত হন অন্তত ১০ শ্রমিক। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। 

সাধারণ শ্রমিক ও সংগঠনটির সাবেক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলে আসছে। এক পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করেন বর্তমান সভাপতি (বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত) ইয়াসিন মোল্লা ও অপর পক্ষ সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন লাভলুর নিয়ন্ত্রণে।

শ্রমিক ইউনিয়নটিতে ৭ হাজার ২০০ জন সদস্য রয়েছেন। এরমধ্যে ১ হাজার দুজন শ্রমিককে সদস্য দেখিয়ে একপাক্ষিকভাবে ২৫ জুলাই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতে কোন প্রতিদ্বন্ধী না থাকায় গত ১৭ জুলাই সবাইকে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার। 

ইসমাইল হোসেন লাভলু বলেন, “আমাদের অধিকাংশ শ্রমিকদের না জানিয়ে গোপনে নির্বাচন করা হয়। কোনো তফসিল ঘোষণা না করে এবং ভোটার তালিকা না টানিয়েই অবৈধভাবে নির্বাচন দেখিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নটি দখল করা হয়।

“যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করা হলে সেখানেও ইয়াছিন মোল্যার নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা করে। এরপরে সাধারণ শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।”

তিনি বলেন, “আমরা সুষ্ঠু একটি নির্বাচনের দাবি জানাই এবং শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচার চাই। যতক্ষণ সু্ষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস না পাব ততক্ষণ শ্রমিকরা বাস চালাবে না।”

ইয়াছিন মোল্যা বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা এখনও চাঁদাবাজি করতেছে। আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের দোসররা একত্রিত হয়েছিল, তখন আমরা সাধারণ শ্রমিকরা বাধা দিয়েছি।” 

এদিকে শ্রমিকদের দ্বন্ধে বাস চলাচল বন্ধ করায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বহু যাত্রীদের ফিরে যেতে দেখা যায়।