১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি হাসপাতালে রোগী রেখে ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসক, স্থানীয়দের ঘেরাও

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 09:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব রেখে পাশের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় স্থানীয়রা চিকিৎসক মোর্শেদুল ইসলামকে ঘিরে ধরেন। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

মোর্শেদুল ইসলাম আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে রোগী দেখা বন্ধ করে বাইরে চলে যান মোর্শেদুল ইসলাম। তখন তার চেম্বারের সামনে কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছিলেন।

পরে স্থানীয় কয়েকজন তার পিছু নিয়ে পাশের দ্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে তাকে দেখতে পান তারা। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং পুলিশ সেখানে গিয়ে মোর্শেদুল ইসলামকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির পরিচালক রাসেল আহম্মেদ বলেন, “মোর্শেদুল ইসলাম আমাদের এখানে এসেছিলেন এবং রোগী দেখেছেন। তবে তিনি কী কারণে হাসপাতালের দায়িত্বের সময় এখানে এসেছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।”

তবে হাসপাতালে অপেক্ষমাণ রোগীদের রেখে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোর্শেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফোন পেয়ে এখানে এসেছি। হাসপাতালে ওই সময় কোনো রোগী ছিল না।”

স্থানীয় যুবক সিফাত হোসেন বলেন, “আমার অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি ডাক্তার নেই।”

হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করা কারিমা আক্তার বলেন, “হাত-পায়ের ব্যথার কারণে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম। ওই ডাক্তার বাইরে গেছেন।”

আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু শফি মাহমুদ বলেন, “এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে পারব না।”

জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন আল-মামুন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।