Published : 04 Dec 2025, 07:18 PM
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ)– গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠকে ‘কড়া প্রতিবাদ’ জানিয়েছে বিজিবি।
বুধবার গভীর রাত ২টার দিকে পঁচাভান্ডার সীমান্তে এ হত্যার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম।
নিহত সবুজ ইসলাম (৩০) পঁচাভান্ডার গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার পরপরই বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা–২) শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার ঘটনাস্থলে যান।
পরে বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএফের চেনাকাটা ক্যাম্পকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ১৫ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু এতে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিকালে অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পর্যায়ে প্রায় ৩০ মিনিটের পতাকা বৈঠক হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম এবং ভারতের পক্ষে ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সৌরভ।
বৈঠকে বিজিবি কর্মকর্তারা গুলি করে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং মরদেহ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি তোলে।
জবাবে বিএসএফ দাবি করে, সবুজ ভারতীয় অংশে ঢুকে বিএসএফের ওপর হামলা চালিয়েছিল। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে জানান হয়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাথাভাঙ্গা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলেই লাশ ফেরত দেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ মুসাহিদ মাসুম বলেন, “অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠকে ঘটনাটি নিয়ে আমরা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি। মরদেহ দ্রুত ফেরত চেয়েছি।
“বিএসএফ আশ্বাস দিয়েছে- ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ হস্তান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও জোরালোভাবে বলা হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার বৈরাগিরহাট চেনাকাটা এলাকার বিপরীতে বাংলাদেশের জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার সীমান্ত এলাকা।
বুধবার রাত ২টার দিকে সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৬৪-এর ৫ নম্বর উপ পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ৮-১০ জন গরু পারাপারকারী ভারতীয় অংশে প্রায় ৩০ গজ ভেতরে প্রবেশ করলে বিএসএফ টহল দল গুলি চালায়। এতে সবুজ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
জগতবেড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অহেদ আলী বলেন, “রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিজিবি ক্যাম্প থেকে আমাকে জানানো হয় যে একজন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। তবে সকালে সবুজের বাড়িতে গিয়ে পরিবার–পরিজন কাউকে পাইনি।”
তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে সবুজের একটি ছোট মুদি দোকান ছিল। এক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর তিনিই পুরো পরিবারের দেখাশোনা করতেন। দুই বছর আগে বিয়ে করা সবুজের এক বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জগতবেড় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হাবিবুর রহমান মণ্ডল বলেন, “মরদেহ এখনো ফেরত দেয়নি বিএসএফ। বিজিবি নিয়মিত যোগাযোগ করছে।”
আগের সংবাদ-