Published : 10 Mar 2026, 04:57 PM
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় জ্বালানি তেল অবৈধভাবে পাচার ঠেকাতে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। এর মধ্যে টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে সীমান্তরক্ষা এ বাহিনী।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ জেটিঘাটে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি-২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজিবি জানায়, জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোষ্টে বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নাফ নদীতে টহল বৃদ্ধি ও চলাচলকারী নৌযানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, যানবাহন ও নৌযানের ওপরও কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।
হানিফুর রহমান বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। ড্রোন, থার্মাল ইমেজার, রাডার, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম, নৌযান এবং ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন ও সংবিধানের আলোকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি অতন্দ্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান হানিফুর রহমান।
এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সংরক্ষণ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যানবাহনের ধরন অনুযায়ী পাম্প থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি গ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছে।