১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেয়েকে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে নদে, বাবার যাবজ্জীবন

২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেহেরপুরের ভৈরব নদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় ববিতা খাতুনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 07:33 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

মেহেরপুরে মেয়েকে হত্যা করে ভৈরব নদে ফেলে দেওয়ার মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার বিকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম কবির এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত বজলুর রহমান মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের আওলাদ হোসেনের ছেলে। নিহত ববিতা খাতুন তার মেঝো মেয়ে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৫ মার্চ রাতে মেহেরপুরের ভৈরব নদ থেকে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় ববিতা খাতুনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় সদর থানার এসআই মকবুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। 

মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর তদন্তে ববিতার বাবা বজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। 

পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

জবানবন্দিতে বজলুর রহমান বলেন, মেয়ের বেপরোয়া চলাফেরার কারণে তাকে হত্যা করে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ভৈরব নদে ফেলে দেন তিনি।

ঘটনার পাঁচদিন পর নদী থেকে ববিতার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদুর রাজ্জাক বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বজলুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। 

মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী খন্দকার একরামুল হক হিরা বলেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।