Published : 23 Jun 2024, 02:11 PM
নেত্রকোণায় বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল টিম কাজ করছে। দুর্গত মানুষকে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে তারা।
এদিকে জেলায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা কবলিত এলাকা থেকেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।
নেত্রকোণার সিভিল সার্জন মো. সেলিম মিয়া বলেন, “জেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখন বন্যাকবলিত লোকজনের মাঝে নানা ধরনের রোগ দেখা দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে ৮৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
“যেসব এলাকায় বন্যার পানি উঠেছে, এই টিমগুলো ওই এলাকাগুলোতে কাজ করছে। তারা পানি বিশুদ্বকরণ ট্যালেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে সহায়তা করছেন।“
তাছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া বলেন, “আশা করছি স্বাস্থ্য বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। সবাই চিকিৎসা পাবেন।”
এদিকে জেলার কলমাকান্দা, সদর, বারহাট্টা ছাড়াও হাওরাঞ্চলের মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরীতে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব এলাকায় বাড়ির আঙ্গিনা থেকে পানি নেমেছে সেখানে কাদা-ময়লায় সয়লাব হয়ে আছে। ফলে লোকজন ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। গবাদিপশু ও শিশু খাদ্যের সংকটের পাশাপাশি সুপেয় পানিরও সংকট দেখা দিয়েছে।
নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান বলেন, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
এছাড়া জেলার হাওর অঞ্চলের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধনু নদের পানি খালিয়াজুরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, “জেলার নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। এখন প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ চলছে।”
জেলায় এখন কত মানুষ পানিবন্দি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। নেত্রকোণা মূলত হাওর অঞ্চল, এখানে মানুষের বাড়িঘর চারপাশে পানিবেষ্টিত। ফলে তাদের পানিবন্দি বলা যাবে না। অনেকে বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি ঢুকেছিল।”
জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, “আমরা আসলে পুরো জেলায় কত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিল, সেটার হিসাব জানি। সারা জেলায় ১৬০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিল।
“রোববার ১২টা পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন ২৫-৩০ পরিবারের ১০০ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রহুল আমীন বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় ১০ মেট্রিকটন জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও দুইশ প্যাকেট শুকনা খাবারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে পানি কমতে থাকায় নতুন করে আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।