ফারদিনের ঘটনায় বজলুরের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে র‌্যাব

ফারদিন ‘হত্যায়’ বজলুরের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করলেও এ বিষয়ে তিনি এখনও মুখ খোলেননি বলে র‌্যাব জানায়৷

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Nov 2022, 06:11 PM
Updated : 18 Nov 2022, 06:11 PM

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের কায়েতপাড়ার ইউপি সদস্য বজলুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।   

শুক্রবার রাতে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এ কথা বলেন। 

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগ্রাম থেকে বজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ব়্যাব-১ এর একটি দল৷ 

মাদক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও হত্যা ও ব়্যাবের অভিযানে বাধা দিয়ে হামলাসহ ডজন খানেক মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। 

ব়্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মোমেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকাল ৪টায় রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্রসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে৷ ব়্যাবের এক অভিযানে বাধা দিয়ে হামলা ও আহতের অভিযোগে করা মামলাতেও আসামি বজলুর রহমান৷ তাকে ওই মামলাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হবে৷” 

বজলুর রহমান কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান; রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য। কায়েতপাড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডেরই একটি অংশ চনপাড়া। 

ফারদিন নূর পরশ হত্যার পর চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের নাম সামনে আসে; যেখানে মাদক ব্যবসার অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে এক ইউপি সদস্যের নাম জড়িত। এর কয়েকদিন পর চনপাড়ায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ২৩ মামলার আসামি রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীন। 

৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পর ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে গোদনাইলে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার রাতে ফারদিনের চনপাড়ার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। ৪ নভেম্বর রাত ২টা ৩৫ মিনিটে ফারদিন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হন তারা। সেই তথ্য অনুযায়ী, তার অবস্থান ছিল চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র (চনপাড়া বস্তি) এলাকায়। 

১০ নভেম্বর চনপাড়ায় ব়্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীন। 

ফারদিন ও শাহীনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ চনপাড়ার বিষয়ে বিশেষ খোঁজখবর শুরু করে। 

রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সদস্যের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধকাজ চালাতেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।  

ফারদিন ‘হত্যায়’ বজলুর রহমানের কোনো সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল মোমেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ফারদিনের বিষয়টি নিয়ে বজলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি৷ তার সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে এমনটা আমরা সন্দেহ করছি৷ তবে এ বিষয়ে সে এখনও মুখ খোলেনি৷ এ বিষয়ে কোনো ক্লু পেলে গণমাধ্যমে জানানো হবে৷” 

সেপ্টেম্বরে র‌্যাবের অভিযানে হামলা চরপাড়ায় 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে চনপাড়ায় অভিযান চালিয়ে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার ও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। গ্রেপ্তার আসামিদের গাড়িতে তোলার সময় তাদের ছিনিয়ে নিতে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে র‌্যাব সদস্যদের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে; রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ও গুলি চালায়। 

হামলায় নাঈম ইসলাম ও খন্দকার কামরুজ্জামান ইমন নামে দুইজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন বলেও রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান। 

ওই রাতে গ্রেপ্তাররা হলেন চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র এলাকার পারভিন বেগম, রিপন মিয়া, রাজু আহাম্মেদ রাজা, মো. হাসান, তপু মিয়া, জসিম বেপারি, মো. বাবু, মো. আমিন, রাসেল হোসেন, নাজমুল হোসেন রায়হান ও মো. সুজন।

গ্রেপ্তার মো. হাসান কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য বজলুর রহমানের ভাই। 

এ ঘটনায় দুদিন পর ইউপি সদস্য বজলুর রহমানসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা করে র‌্যাব। 

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএফএম সায়েদ জানান, র‌্যাব-১, সিপিসি-১ এর নায়েক সুবেদার তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদক ও অবৈধ বিদেশি অস্ত্র রাখা, সরকারি কাজে বাধা দিয়ে র‌্যাবের উপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও দাঙ্গায় লিপ্ত থাকার অভিযোগে মামলা তিনটি দায়ের করেন।

আরও পড়ুন:

Also Read: চনপাড়ার ঘটনায় ইউপি সদস্য বজলুর গ্রেপ্তার

Also Read: ‘মাদক ব্যবসায়ীদের’ গুলিতে নিহত হন শাহীন, মামলায় বলছে ব়্যাব

Also Read: ফারদিন হত্যা: চনপাড়ার মাদক কারবারিদের খোঁজে পুলিশ

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক