Published : 22 Jun 2026, 11:44 AM
প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৩ বছর পার হলেও নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় গড়ে ওঠেনি কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন। ফলে শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা।
এতে একদিকে যেমন পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে; অন্যদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে ১৪ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে লোহাগড়া পৌরসভা গঠিত হয়, এখানে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ে এখানে আবর্জনা ফেলার কোনো স্থায়ী জায়গা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে উপজেলা পরিষদ চত্বর, নড়াইল-কালনা মহাসড়কের পাশ, মাছ বাজার, প্রেসক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা চত্বরসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ময়লা ফেলা হচ্ছে।
তবে সকলের সহযোগিতায় দ্রুতই এই আবর্জনা সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নড়াইলের লোহাগড়া পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের পূর্ব পাশে একটি ছোট ময়লার স্থান উপচে পড়ছে। সেখানে কুকুর ও পাখি ময়লা থেকে খাবার খাচ্ছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে সরকারি কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
লোহাগড়া পৌরসভার লক্ষ্মীপাশা গ্রামের বাসিন্দা অনিকা ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বাজার-মহাসড়ক সব জায়গাই ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এসব সড়ক দিয়ে যেতে গেলে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমরা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই।”
লোহাগড়া পৌরসভার বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলছিলেন, “এই পৌরসভার যত ময়লা-আবর্জনা আছে, সবই জনবহুল এলাকায় ফেলা হয়, ফলে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অথচ এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যাথা নেই।”

সিঙ্গা এলাকার রুপক মুখার্জী বলেন, “দীর্ঘ ২৩ বছর লোহাগড়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও নিদিষ্ট কোন ময়লা-আবর্জনা ফেলার যায়গা নেই। সেজন্য খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে।
“আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গেলেও কোনো সমাধান হয়নি।”
দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাম্পিং স্টেশন নির্মানের দাবি করে তিনি।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নড়াইলের লোহাগড়া পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা বলেন, “লোহাগড়ায় ময়লা-আবর্জনা ফেলবার কোনো যায়গা নেই, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সম্প্রতি এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।”