২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মেঘনায় ট্রলারডুবি: ৩ ছেলে-মেয়ের লাশ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ বাবা

কুমিল্লা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ঝড়ের কবলে পড়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 11:55 AM

Updated : 26 Sep 2026, 12:28 PM

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুদিন পর একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ওই পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।

শনিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ঘাটের আশপাশে নদীতে ভাসমান অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

মরদেহ উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন, কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্ধী গ্রামের অটোরিকশা চালক হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিনা (১৭) এবং দুই ছেলে সজিব (২৪) ও সামিন (৫)।

এর মধ্যে সামিনার মরদেহ রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে এবং সজিব ও সামিনের মরদেহ সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বৈদ্যেরবাজারের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়।

Image

হেলাল উদ্দিন ও তার তিন সন্তান সামিনা, সজিব, সামিন। সন্তানদের লাশ উদ্ধার হলেও এখনো নিখোঁজ হেলাল উদ্দিন।

এর আগে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।

খবর পাওয়ার পর বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সেদিন রাত ৩টা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আবারও অভিযান শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ডুবুরি দলও বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়েছে। কিন্তু নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি।

নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে আত্মীয় সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের জন্য দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল।

পথে হঠাৎ মেঘনা নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এতে প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়ে ট্রলারে পানি উঠতে থাকে। এক পর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তারা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। নিখোঁজ হন বাকিরা।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের উজানপর ইউনিয়নের কাইলকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি নিখোঁজ হেলালের ফুফু।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলমান আছে । অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন।

পুরানো খবর:

মেঘনায় ট্রলারডুবি: উদ্ধার হয়নি বাবা ও ৩ ছেলে-মেয়ে
মেঘনায় ঝড়ে ডুবল নৌকা, নারীর লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ৪