Published : 18 Feb 2026, 09:09 PM
প্রায় ৩৬ বছর পর আবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মাগুরার মহম্মদপুর, শালিখা ও সদর উপজেলায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আরিফুজ্জামান মিল্টন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “নিতাই বাবু কেবল আমাদের নেতা নন, তিনি এই অঞ্চলের অভিভাবক। তার মন্ত্রী হওয়া মানে আমাদের অধিকার ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়া।”
নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৯০ সালে জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
১৯৯০ থেকে ২০২৬, মাঝখানে দীর্ঘ তিন যুগ। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম, বহু হিসাব-নিকাশ। এরশাদের মন্ত্রিসভার সেই তরুণ তুর্কি মঙ্গলবার বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
১৯৪৯ সালে মহম্মদপুর উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া নিতাই রায় চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি নাটকীয়।
নব্বইয়ের পালাবদলের পর ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। দীর্ঘ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের আস্থাভাজন হয়ে থেকেছেন।
এভাবে এরশাদ থেকে তারেক রহমান; দুই ভিন্ন মেরুর নেতৃত্বে তার এই অবিচল অবস্থান তাকে এক বিরল ও বর্ণাঢ্য রাজনীতিকের মর্যাদায় সিক্ত করেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী নিতাই রায় চৌধুরীর এই প্রত্যাবর্তন ছিল অনেকটা মহাকাব্যিক উপন্যাসের মতো।
দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও ত্যাগের পর এই বিজয় যেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ ‘মুকুট’।
এরপরই নবগঠিত সরকারে তার মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় মাগুরার বাতাসে এখন কেবলই উৎসবের ঘ্রাণ ও মানুষের চোখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এক ‘নতুন ভোরের’ স্বপ্ন।
মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধার ভাষায়, ‘দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই নেতার হাতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মানেই দেশের অবহেলিত লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ।’