Published : 21 Sep 2025, 05:23 PM
উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরকে ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত’ করার অভিযোগ এনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ কর্মবিরতি পালন করছেন।
তাদের কর্মবিরতির কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে ক্যাম্পাসজুড়ে। প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ‘ফাঁকা’ ক্যাম্পাসে রাকসু নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারে ‘ভাটা’ পড়েছে।
তবে কর্মবিরতির মাঝেও কয়েকজন শিক্ষক ক্যাম্পাসের খোলা জায়গায় ক্লাস নিয়েছেন। কিছু ব্যাচের ল্যাব টেস্টও অনুষ্ঠিত হয়েছে এ দিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জামাল নজরুল ইসলাম বিজ্ঞান ভবন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু অ্যাকাডেমিক ভবন, মমতাজউদ্দিন কলা ভবন এবং শহীদুল্লাহ্ অ্যাকাডেমিক ভবন ঘুরে দেখা গেছে, অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোতে কোন শিক্ষার্থী নেই। ক্লাস রুমগুলোতে ঝুলছে তালা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার এ দিন ‘টুকিটাকি চত্বরে’ ক্লাস করিয়েছেন। আর ইলেকট্রনিক এন্ড ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক শিক্ষক ল্যাব টেস্ট নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আজকে আমাদের রুটিনে তিনটা ক্লাস হওয়ার কথা ছিল। সকালে কোর্স শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে, তারা আজ ক্লাস নিতে পারবেন না।

“শিক্ষার্থীদের ক্লাস হওয়া না হওয়া নিয়ে উনাদের আসলে কোন চিন্তা নেই। উনারা উনাদের সন্তানদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া নিয়েই চিন্তিত।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মামুন শান্ত বলেন, “পোষ্য কোটাকে সামনে এনে রাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন নতুন কাহিনী শুরু করেছে। আজ ক্লাস রুটিন দিয়েও ক্লাস হল না। নির্বাচন হবে কি-না তাও জানি না। সেই জন্যই চলে যাচ্ছি।”
এ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে। অনেকেই কোটা পুনর্বহালের ‘বিপক্ষে’ হলেও সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাকসু ভোটের প্রচার চলছে ‘সীমিতভাবে’
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই তেমন। শিক্ষার্থীরা না থাকায় রাকসু ভোটের প্রচার চলছে ‘খুবই সীমিতভাবে’। বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি ও পরিবহন আমতলা ঘুরে প্রার্থীদের প্রচার দেখা যায়নি।

ছাত্রশিবির মনোনীত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের’ সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, “আমরা প্রচারের জন্য মাত্র নয় দিন সময় পেয়েছিলাম। এর মাঝে আন্দোলনসহ নানা কারণে প্রচারে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি।
“এখন কর্মবিরতির কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদেরও পাওয়া যাচ্ছে না। এটি প্রার্থীদের প্রচারণায় একটু বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।”

রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ এবং ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী কায়সার আহমেদ বলেম, “আজকের কর্মবিরতির কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই হল এবং মেসে অবস্থান করছে।
“ক্লাস পরীক্ষা থাকলে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ভবন এবং ক্যাম্পাসেই পাওয়া যেত। এটি ভোটের প্রচারণায় একটা প্রভাব তো ফেলছেই।”