ওয়াশিংটনে মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী উরবম

“বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র,” বলেন তিনি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
Published : 23 Feb 2024, 01:38 PM
Updated : 23 Feb 2024, 01:38 PM

বাংলাদেশকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্কট উরবম।

তিনি বলেছেন, গত ৫০ বছরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে বাংলাদেশে বিপুল বিনিয়োগ করেছেন তারা।

“আগামী ৫০ বছর এবং এরপরেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।”

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। রক্তের দামে এসেছিল বাংলার স্বীকৃতি আর তার সিঁড়ি বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির এই আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্কট উরবম।

তিনি বলেন, “মাতৃভাষা দিবস শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়েই নয়, সমগ্র পৃথিবীর মানুষের হৃদয়েও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। আজ বাংলা পৃথিবীতে অন্যতম সর্বাধিক উচ্চারিত ভাষা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এবং এটি সারাবিশ্বে বাংলা ভাষার প্রভাব ও গুরুত্বের প্রমাণ বহন করে।”

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।”

নতুন প্রজন্ম যাতে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও জানতে পারে, সেজন্য উৎসাহ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত ইমরান।

পরে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দূতাবাস পরিবার, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা এবং ভারত, নেপাল, জাপান ও শ্রীলঙ্কার শিল্পীরা অংশ নেন। একটি বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দলের কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীত ও দলীয় নৃত্য পরিবেশনও মুগ্ধ করে অতিথিদের।

পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দূতাবাস আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনে উপস্তিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহেদুল ইসলাম, মিনিস্টার (ইকনোমিক) ফজলে রাব্বি, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) রাশেদুজ্জামান, ফার্স্ট সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান নূর, কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান শামীমা ইয়াসমিন স্মৃতি, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট এবং ভিসা উইং) মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিলটন, ফার্স্ট সেক্রেটারি আতাউর রহমান।