Published : 30 Apr 2026, 11:26 AM
নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত নাগরিক জীবনের মাঝে হঠাৎ যেন ঝিরিঝিরি হাওয়া নিয়ে হাজির হলো গারো পাহাড়ের পাদদেশের সেই চিরচেনা শেরপুর।
শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হল পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে, প্রবাসীদের হৃদয়ে বেজে উঠেছিল স্বদেশের টান।
‘প্রবাসী শেরপুর জেলা সমিতি, ইউএসএ’-এর আয়োজনে এই বৈশাখ বরণ ও পিঠা উৎসব পরিণত হয়েছিল প্রবাসী শেরপুরবাসীর মিলনমেলায়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মুসলিম জমিদার শের আলী গাজীর স্মৃতিবিজড়িত ভূমি আর পাহাড়-নদী ঘেরা শেরপুরের ঐতিহ্যকে প্রবাসে তুলে ধরতেই সাজানো হয়েছিল এই বর্ণিল আয়োজন। হলের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বাঙালির চিরচেনা লোকজ সাজ, যা মুহূর্তেই অতিথিদের নিয়ে যায় শৈশবের সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ২৯ পদের বাহারি ও জিভে জল আনা পিঠার সমাহার। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা তো ছিলই, তার সঙ্গে লবঙ্গ পিঠা, গোটা পিঠা, নারিকেল বড়া আর ক্ষীর পিঠার সেই ম ম গন্ধে মাতোয়ারা ছিলেন উপস্থিত সবাই।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের চোখে ছিল বিস্ময়, আর বড়দের চোখে ছিল স্মৃতিকাতরতা। নিজ হাতে তৈরি পিঠা নিয়ে আসা নারীদের হাসিমুখ আর পরিবেশনার আন্তরিকতা বিদেশের মাটিতেও মা-মাসিদের হাতের ছোঁয়া মনে করিয়ে দিচ্ছিল।
সংগঠনের সভাপতি প্রদোষ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ছামেদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা মো. আবুল কাশেম।
তিনি বলেন, “এই পিঠা উৎসব কেবল খাওয়ার উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির শেকড়। ইট-কাঠের এই যান্ত্রিক প্রবাসে আমরা যেন আমাদের পরিচয় ভুলে না যাই, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরন্তর পথচলা।”
অনুষ্ঠানে উৎসব কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ রায়হান লিখন ও প্রধান সমন্বয়কারী মামুন রাশেদসহ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সম্প্রীতি আর ঐক্যের জয়গান।
আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় সুর ও শব্দের মূর্ছনা। মামুন রাশেদ ও রানা রায়হানের কবিতা আবৃত্তি হলভর্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে।
তারপর কণ্ঠশিল্পী শাহ মাহবুব ও শামীম রেজার লোকসংগীতের জাদুতে হলের পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দময়। তাদের গাওয়া মাটির গানে প্রবাসীরা যেন ক্ষণিকের জন্য ফিরে গিয়েছিলেন শেরপুরের সেই মেঠো পথে।
পুরো আয়োজনের নেপথ্যে কারিগর হিসেবে ছিলেন রেখা জামান চৌধুরী, রূপচাঁন মিয়া, মাসুদ পারভেজ মুক্তাসহ একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। গভীর রাত অবধি চলা এই উৎসব শেষে প্রবাসীরা যখন ঘরে ফিরছিলেন, তাদের হৃদয়ে তখনও লেগে ছিল পিঠার মিষ্টতা আর একরাশ ভালোলাগার স্মৃতি।