Published : 19 Jul 2026, 08:20 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের স্মরণে সেখানকার একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।
সাহসী দিদার যে বাসায় থাকতেন, তার বাসার সামনের সড়কে শনিবার ‘ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ সাইন লাগানো হয়।
ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পার্কচেস্টার এলাকার ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভেনিউয়ে থাকতেন। সেই সড়ক এখন নতুন নাম পেল।
এ সময় দিদারের স্ত্রী, সন্তান, বাবাসহ কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “দিদারের বাসস্থানের রাস্তায় এই নামফলক স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই সিটি দিদারের পেশাগত বীরত্বকে যুগ যুগ ধরে স্মরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করল।

“যখন কোনো ব্যক্তির নামে একটি এলাকা অথবা রাস্তার নামকরণ করা হয়, তখন সেই ব্যক্তির জীবন-ইতিহাস নিউ ইয়র্ক সিটি হৃদয়ে ধারণ করে।”
দিদারুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্ক গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন; দায়িত্বে ছিলেন ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিনক্টের (এলাকার)।
৩৬ বছর বয়সি দিদারুল ইসলাম গত বছরের ২৮ জুলাই পার্ক অ্যাভিনিউয়ের ৪৪ তলা বিল্ডিংয়ের লবিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় লাস ভেগাসের ২৭ বছর বয়সী শেন তামুরা সেখানে ঢুকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়।
তামুরা এক নিরাপত্তা প্রহরী ও দুই বেসামরিক ব্যক্তিকেও গুলি করেন। এরপর তিনি আত্মঘাতী হন। তিনি ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদর দপ্তরকে নিশানা করতে চেয়েছিলেন। ওই ভবনেই এনএফএল দপ্তর, কিন্তু তামুরা ভুল এলিভেটরে ঢুকে পড়েছিলেন।
দিদারুল পুলিশ বিভাগের অনুমতি নিয়ে ইউনিফর্মে সেই ভবনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুর পর তাকে ফার্স্ট গ্রেডের ডিটেকটিভ হিসেবে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়া হয়।
দিদারুল মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে পার্কচেস্টার এলাকায় থাকতেন। দিদারের মৃত্যুর পর তার ঘরে আরেক পুত্র সন্তান আসে।
এর আগে নিউ ইয়র্ক সিটিতে আরও তিন বাংলাদেশির নামে দুটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। এর একটি হচ্ছে ব্রুকলিনে শাকিলা-নূরুল ইসলাম মিয়া সড়ক এবং অপরটি ওজোন পার্কের ‘মিজানুর রহমান ওয়ে’। তাদের মধ্যে শাকিলা-নূরুল দম্পতি ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। পরে এ দম্পতির নামে তাদের বাসার সামনের সড়কের নামকরণ করা হয়। আর ফটো সাংবাদিক মিজানুর রহমান সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলের সড়কে তার নাম দেয় নিউ ইয়র্ক সিটি।