১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

থিম্পুতে বাংলাদেশ-ভুটান সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সমাপ্ত

রেজাউদ্দিন স্টালিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ১১ জন শিল্পী অংশ নেন।

থিম্পুতে বাংলাদেশ-ভুটান সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি সমাপ্ত
ছবি: বাংলাদেশ দূতাবাস।

প্রবাস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 01:44 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শেষ হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশ-ভুটান সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি’।

১৪ থেকে ২১ অগাস্ট পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল অংশ নেয় বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ১১ জন শিল্পী ছিলেন।

ভুটানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীনের দেওয়া স্বাগত নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দূতাবাসের লাউঞ্জে এ নৈশভোজে ভুটান সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তারপর ১৫ অগাস্ট ভুটানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্কৃতি ও জংখা উন্নয়ন বিভাগে সাংস্কৃতিক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব দ্য পারফর্মিং আর্টসের অধ্যক্ষ ফুব ওয়াংদি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন বলেন, “বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে।” 

তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি এবং ভুটানের বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন তৈরি করে।”

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ দূতাবাস মিলনায়তনে দুই দেশের শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডিএন ধুংগেল।

রেজাউদ্দিন স্টালিন তার বক্তব্যে ভুটান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং স্মরণ করেন যে, ভুটানই প্রথম দেশ হিসেবে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

রাষ্ট্রদূতের পক্ষে সমাপনী বক্তব্যে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাবেয়া বেগম বলেন, “সংস্কৃতি এমন একটি সর্বজনীন ভাষা, যা দেশের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে।” 

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনিময় কর্মসূচি ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে যৌথ প্রদর্শনী, কর্মশালা ও বহুমুখী সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত সোনম তোবগে, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আদেল হুসাইন আলজাসাম, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গৌরব রায় এবং ইউনিসেফ, ডব্লিউএফপি ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা।