২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সিডনিতে সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা

সম্মাননা দিয়েছে ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই ইন অস্ট্রেলিয়া’।

সিডনিতে সম্মাননা পেলেন চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা

বাঁ দিক থেকে মাহবুবা খানম মুক্তা ও সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান শিল্পীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন।

নাইম আবদুল্লাহ, সিডনি থেকে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 10:44 PM

Updated : 26 Oct 2026, 10:54 PM

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানাকে সম্মাননা দিয়েছে ‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই ইন অস্ট্রেলিয়া’।

রোববার সিডনির রিচমন্ড স্কুল অব আর্টসে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তারা।

সংগঠনের দুই উপদেষ্টা মাহবুবা খানম মুক্তা ও সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান শিল্পীর হাতে অস্ট্রেলিয়ার মানচিত্রের আদলে তৈরি কাঠের একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।

সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, “শিল্পী রোকেয়া সুলতানার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা একটু অন্যরকম। গত বছর সংগঠনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তার আঁকা দুটি চিত্রকর্মের নিলাম থেকে পাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ সংগঠনের চ্যারিটি তহবিলে দেওয়া হয়েছিল।

“মজার ব্যাপার হলো, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল প্রাঙ্গণ তিনি কখনো নিজের চোখে দেখেননি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা বর্ণনা আর শৈশবের স্মৃতিকে সম্বল করে নিজের কল্পনায় তিনি ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন স্কুলের মাঠ আর চেনা পরিবেশ। প্রবাসে বসে শৈশবের সেই চেনা রূপ দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়েন সাবেক শিক্ষার্থীরা।”

সম্মাননা নেওয়ার পর রোকেয়া সুলতানা তার জীবনের পেছনের গল্পগুলো বলেন। নারী শিল্পী হিসেবে পারিবারিক দায়িত্ব সামলে চার দশকের বেশি সময় ধরে কীভাবে শিল্পচর্চা চালিয়ে গেছেন, সেই সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি শোনান অধ্যবসায় আর আত্মবিশ্বাসের বার্তা।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক’ পঙক্তিটি আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের একই মঞ্চে উন্মোচন করা হয় লেখক ও সাবেক ক্রিকেটার ওমর খালিদ রুমীর একটি নতুন বই।

রোকেয়া সুলতানা বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলায় এক পরিচিত মুখ। ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক এবং শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাপচিত্র বিভাগে শিক্ষকতা করে বহু শিক্ষার্থীকে গড়ে তুলেছেন। তার ‘ফাতিমা’ ও ‘ম্যাডোনা’ সিরিজসহ বিভিন্ন কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও পোল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে তার একক ও যৌথ প্রদর্শনী হয়েছে। শিল্পকলায় তার এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ২০২৪ সালে একুশে পদক দেওয়া হয়।