নিউ ইয়র্কে সাহিত্য একাডেমির কবিতাপাঠের আসর
এ আয়োজনে ‘অন্বয় প্রকাশ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩’ ঘোষণা করা হয়।
কবিতাপাঠ ও আলোচনার মধ্য দিয়ে মাসিক সাহিত্য আসর করেছে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, নিউ ইয়র্ক’।
শুক্রবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে এ আসরে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
‘যতদূর বাংলা ভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’ শিরোনামে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতাটি পারভীন সুলতানার আবৃত্তির মধ্য দিয়ে আসরের সূচনা হয়।
এ আয়োজনে ‘অন্বয় প্রকাশ সাহিত্য পুরস্কার ২০২৩’ ঘোষণা করা হয়। এবছর পুরস্কার পাওয়া নিউ ইয়র্ক প্রবাসী লেখক-অভিনেত্রী রেখা আহমেদের হাতে পদক তুলে দেন অন্বয় প্রকাশের মালিক হুমায়ূন কবির ঢালী।
কবি শহীদ কাদরীকে স্মরণ করে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, “এই আসরে আমার গুরুকে আমি দেখতে পাচ্ছি। তিনি এসেছিলেন বলেই বদলে গেছে এই শহরটি। তার তিরোধানের পর তাকে আবার ধারণ করেছে বাংলার মাটি মা। যে যতদূরেই যাক তিনি বাংলার মাটিতেই থাকেন, বাংলার আকাশেই থাকেন অথবা বাংলা বিস্তারে থাকেন।”
আসরে পঠিত কবিতা নিয়ে তিনি বলেন, “অধিকাংশ কবিতা আমার ভালো লেগেছে। তবে কিছু কিছু কবিতায় ব্যাকরণের যে প্রক্রিয়া আছে তার অভাব আছে। কবিতার আরেকটি বিষয় আছে, সেটি হলো বোধ থেকে যে কথাগুলো উৎসারিত হয় সেটি অবশ্যই কবিতা হয়ে যায়। সে ছন্দকে আমরা বলি বোধের ছন্দ, সেটা অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্ত ছন্দ নয়। আপনি যদি প্রকৃত কবি হতে চান তাহলে কবিতার ব্যাকরণ শেখা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।”
নীরা কাদরী বলেন, “সাহিত্য একাডেমির একমাত্র উপদেষ্টা কবি শহীদ কাদরী সবসময় বলতেন, অনেক ঝড় ঝাপটা আসবে সামনে, কিন্তু সাহিত্য একাডেমির আসর কখনো যেন বন্ধ না হয়। তিনি বলতেন, সাহিত্য একাডেমি থেকে একদিন বড় লেখক, কবি বেরিয়ে আসবে এবং সেই সম্ভাবনা আমরা দেখি।”
একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কবি নাজমুন নেসা পিয়ারী, সঙ্গীতজ্ঞ মুত্তালিব বিশ্বাস, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, কাশবন প্রকাশনীর মালিক আমিনুল ইসলাম, বিদ্যাপ্রকাশের মালিক মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান খোকা, কবি তমিজ উদ্দীন লোদী ও কাজী আতীক।
