০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্যারিসে প্রবাসীদের বইমেলায় বাংলা সংস্কৃতির জয়গান

মেলায় ২৫টি স্টলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের বই প্রদর্শিত হয়।

এনায়েত হোসেন সোহেল, ফ্রান্স প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Nov 2026, 02:55 PM

Updated : 03 Nov 2026, 02:55 PM

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নেন ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশ থেকে আসা ৩০ জন লেখক।

রোববার প্যারিসের মাদলেন গির্জা হলে এ বইমেলার আয়োজন করে প্রবাসী সংবাদপত্র ‘প্যারিস টাইমস’। বই প্রদর্শনী, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় দিনব্যাপী আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রবাসী বাঙালির মিলনমেলা।

মেলায় ২৫টি স্টলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ধরনের বই প্রদর্শিত হয়। লেখক, কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত।

এমদাদুল হক স্বপনের পরিচালনায় বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে প্যারিস টাইমসের স্বত্বাধিকারী কাজী নিধি উল্লাহ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন।

ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এসময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা লেখক হাসানুজ্জামান রিপন ও প্যারিস টাইমসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাজী এনায়েত উল্লাহ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক।

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মেলায় হাসানুজ্জামান রিপন, এনামুল হক, রবিশঙ্কর মৈত্রী, আরিফ রানা, লোকমান আহম্মদ আপন, রিয়াজ আহমেদ জুয়েল, প্রকাশ রায় ও সোয়েব মোজাম্মেলকে প্যারিস টাইমসের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিতা পাঠ ও লেখকদের স্বরচিত সাহিত্যকর্ম উপস্থাপন। কবি রবিশঙ্কর মৈত্রীর পরিচালনায় কবিতার আসরে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কবিরা নিজেদের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন। রোমানা মনসুর ও আল আমিনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করেন জাকারিয়া, কাজী আরিফ রানা, শাহাদাত হোসেন রনি ও ইমতিয়াজ আহমেদ।

শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নেয় খুদে শিল্পীরা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।