১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নিউ ইয়র্কে প্রাণ হারানো দিদারুলের ঘরে এল আরেক সন্তান

“জামিলা, আহিয়ান, আজহান এবং এখন আরহাম— তারা আজীবনই এনওয়াইপিডি পরিবারের সদস্য,” বলেন পুলিশ কমিশনার টিশ।

নিউ ইয়র্কে প্রাণ হারানো দিদারুলের ঘরে এল আরেক সন্তান
দিদারুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2025, 04:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:36 PM

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের ঘরে আরেক পুত্র সন্তান এসেছে, তার নাম রাখা হয়েছে আরহাম।

নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এক ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে এক নতুন জীবন এসেছে পৃথিবীতে। আরহাম তার দুই বড় ভাই আহিয়ান ও আজহানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তারা একসাথে তাদের বাবার সেবা ও সাহসের উত্তরাধিকার বহন করে এগিয়ে যাবে।”

দিদারুলের স্ত্রী জামিলা ইসলাম রোববার তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। সে সময় দিদারুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতালে থাকার কথা এক এক্স পোস্টে জানিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস।

তিনি বলেন, “আমি জানি, আরহামের জন্ম এ পরিবারের জন্য কতটা বিশেষ, যারা তাদের বীরকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। 

“আমাদের পুরো শহর তাদের পাশে আছে এবং সবসময় তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।”

নবজাতক আরহাম ইসলাম

নবজাতক আরহাম ইসলাম

এনবিসি নিউজ লিখেছে, ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম গত ২৮ জুলাই পার্ক অ্যাভিনিউয়ের ৪৪ তলা বিল্ডিংয়ের লবিতে কর্মরত ছিলেন। এ সময় লাস ভেগাসের ২৭ বছর বয়সী শেন তামুরা সেখানে ঢুকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়।

তামুরা এক নিরাপত্তা প্রহরী ও দুই বেসামরিক ব্যক্তিকেও গুলি করেন। এরপর তিনি আত্মঘাতী হন।

তিনি ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদর দপ্তরকে নিশানা করতে চেয়েছিলেন। ওই ভবনেই এনএফএল দপ্তর, কিন্তু তামুরা ভুল এলিভেটরে ঢুকে পড়েছিলেন।

পুলিশ কমিশনার টিশ পরে জানান, দিদারুল পুলিশ বিভাগের অনুমতি নিয়ে ইউনিফর্মে সেই ভবনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। 

দিদারুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন। তিনি সেখানে মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

মেয়র অ্যাডামস গত মাসে বলেছিলেন, দিদারুলই নিউ ইয়র্ক গোয়েন্দা পুলিশের প্রথম বাংলাদেশি কর্মকর্তা, যিনি দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। দিদারুল ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিনক্টের (এলাকার) দায়িত্বে ছিলেন। 

আরহামের সঙ্গে দুই ভাই আহিয়ান ও আজহান।

আরহামের সঙ্গে দুই ভাই আহিয়ান ও আজহান।

দিদারুল ইসলামের চাচাতো ভাই মুহাম্মাদ মাইনুল ইসলাম এনবিসি নিউজকে বলেন, পরিবারের ভরণ-পোষণ ও সন্তানদের লালন-পালনের ভার ছিল দিদারুলের ওপর।

“যখনই তার সময় হত, বিশেষ করে ছুটির দিনে- তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে মসজিদে যেতেন।”

হামলার পর পুলিশ বেনিভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি বলেন, “তিনি তার পরিবারের জন্য ওভারটাইম বা অন্য কোনো উপায়ে প্রতিদিন কাজ করতেন।”

পুলিশ কমিশনার টিশ তার বিবৃতিতে বলেন, নবজাতক, তার মা ও ভাইয়েরা নিউ ইয়র্ক গোয়েন্দা পুলিশ পরিবারের অংশ। 

“জামিলা, আহিয়ান, আজহান এবং এখন আরহাম— তারা আজীবনই এনওয়াইপিডি পরিবারের সদস্য।”

প্রয়াত দিদারুলকে নিউ ইয়র্কেই দাফন করা হয়েছে। তার জানাজার আগে ‘প্রথম গ্রেডের ডিটেকটিভ’ হিসেবে মরণোত্তর পদোন্নতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল নিউ ইয়র্ক পুলিশ। সেই পদোন্নতি সোমবার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

এদিকে দিদারুল ইসলামের ‘সাহসিকতার’ স্বীকৃতি হিসেবে ভার্জিনিয়া অ্যাভিনিউয়ের নাম ‘ডিটেকটিভ দিদার অ্যাভিনিউ’ করার দাবি জানিয়ে আসছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

পুরনো খবর

ভার্জিনিয়া অ্যাভিনিউয়ের নাম 'ডিটেকটিভ দিদার অ্যাভিনিউকরার দাবি

নিউ ইয়র্কে দিদারুলের দাফন সম্পন্নপেলেন মরণোত্তর পদোন্নতি

নিউ ইয়র্কে গুলিতে নিহত পুলিশ সদস্যের বাড়ি বাংলাদেশে