Published : 01 Aug 2025, 06:42 PM
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার মসজিদে দিদারুলের জানাজা হয়। তাতে অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার মানুষ।
জানাজার পর দিদারের মরদেহ নিয়ে যখন দাফনের উদ্দেশে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পুলিশের চারটি হেলিকপ্টার টহল দেওয়ার মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
এদিকে দিদারুলকে ‘প্রথম গ্রেডের ডিটেকটিভ’ হিসেবে মরনোত্তর পদোন্নতি দিয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। জানাজার আগে এ পদোন্নতির ঘোষণা আসে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিশনার জেসিকা টিশের কাছ থেকে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা মঈন চৌধুরী বলেন, পদোন্নতির ফলে দিদারের পরিবার আরও বেশি ভাতা পাবে; অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়বে।
তিনি বলেন, “আজ স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাগম ঘটেছে। আমার মনে হয়, এত বড় জানাজা কোনো বাংলাদেশির জন্য এর আগে নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে হয়নি।”
দিদারুল ইসলামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে তিনি নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করে আসছিলেন। তিনি সেখানে মা-বাবা, দুই ছেলে ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।
সোমবার এক অস্ত্রধারী ম্যানহটনের একটি ভবনে ঢুকে দিদারুলসহ চারজনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এরপর আত্মহত্যা করে হামলাকারী।

নিউ ইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দিদারুল ইসলাম বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এসে নিউ ইয়র্কে থিতু হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান।
দিদারুলের জানাজায় শরিক হয়েছিলেন সিটি মেয়র এরিক এডামস, স্টেট গভর্নর ক্যাথি হোকুল, মেয়র পদে ডেমক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু ক্যুমো, রিপাবলিকান পার্টির মেয়র প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াসহ হাজার হাজার মানুষ।
উপস্থিত ছিলেন দিদারের বাবা আব্দুর রব, স্ত্রী জামিলা আকতার ও দুই সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনরা।
জানাজা ও দাফনের আগে দিদাদের স্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, “দিদার ছিলেন আমাদের সবকিছু। তার এই মৃত্যু আমাদেরকে একেবারেই মুষড়ে ফেললেও গৌরববোধ করছি যে, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ওই লবির অন্যদের জীবন বেঁচেছে।”
কার্টিস স্লিওয়া বলেন, “আমেরিকানদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশি কর্মকর্তা যে ত্যাগ শিকার করলেন, তা উদাহরণ হয়ে থাকবে অনন্তকাল। আর এই পথ বেয়েই বহুজাতিক সমাজে উদীয়মান একটি কমিউনিটি হিসেবে বিশেষ স্থানে অধিষ্ঠিত হলেন বাংলাদেশি আমেরিকানরা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-জাতি নির্বিশেষে মানুষ এসেছেন জানাজায়, এ এক বিরল দৃশ্য।”
ব্রুঙ্কসের রাজনীতিক হাসান আলী বলেন, দিদারের সাহসিকতা, কর্মনিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ প্রবাসী বাংলাদেশি, মুসলিম কমিউনিটি এবং নিউইয়র্কবাসীর জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।
জানাজায় অন্যদের মধ্যে সামাজিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসাইটির’ প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান সেলিম, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হক খান, সেক্রেটারি রোকন হাকিম, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের নেতা শাহজাহান শেখ ও আব্দুস শহীদ ও স্পোর্টস কাউন্সিলের নেতা মহিউদ্দিন দেওয়ানও অংশগ্রহণ করেন।