বিএনপির ‘এক দফার’ বিপরীতে আওয়ামী লীগও ‘এক দফা’ নিয়ে মাঠে আছে।
Published : 17 Jul 2023, 08:08 PM
সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে থাকা বিএনপির পদযাত্রার দুই দিন ‘শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
মঙ্গল ও বুধবার সারা দেশে এ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। সোমবার দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিপ্লব বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার নামে বিএনপির ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টাকে’ রুখে দিতে এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরতে সারা দেশে শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করবে আওয়ামী লীগ।”
গত ১২ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি সরকার পতনের ‘এক দফা’ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেদিন প্রাথমিক কর্মসূচি হিসেবে ১৮ জুলাই ঢাকাসহ সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রার ঘোষণা দেন। পরের দিনও ঢাকায় হবে একই কর্মসূচি।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গাবতলী থেকে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত এবং বুধবার উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত বিএনপির পদযাত্রা হবে।
আওয়ামী লীগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার তারাও সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে ‘শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা’ করবে।
এই কর্মসূচি সফল করতে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রুট ঘুরে বিএনপির পদযাত্রা পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ে পৌঁছাবে বিকাল ৪টায়।
যাত্রাপথ: গাবতলী– টেকনিক্যাল মোড়– মিরপুর-১– মিরপুর-১০ গোল চত্ত্বর– কাজীপাড়া– শেওড়াপাড়া– তালতলা(আগারগাঁও)– বিজয় স্মরণী– কাওরান বাজার– এফডিসি– মগবাজার– মালিবাগ– কাকরাইল– নয়াপল্টন(বিএনপি অফিস)– ফকিরাপুল– মতিঝিল (শাপলা চত্বর)– ইত্তেফাক মোড়– দয়াগঞ্জ– রায়সাহেব বাজার মোড়।
বুধবার একই সময়ে উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রা শুরু করে বিএনপির পদযাত্রা যাত্রাবাড়ী পৌঁছাবে বিকাল ৪টায়।
যাত্রাপথ: আব্দুল্লাহপুর– বিমানবন্দর– কুড়িল বিশ্বরোড– নতুন বাজার– বাড্ডা– রামপুরা ব্রিজ– আবুল হোটেল– খিলগাঁও– বাসাবো– মুগদাপাড়া– সায়েদাবাদ–যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ঢাকা ছাড়া সকল মহানগর ও জেলায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি হবে। কর্মসূচি সফল করতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপির পাশাপাশি সরকারপতনের যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা জোট ও দলগুলোও আলাদাভাবে একই কর্মসূচি পালন করবে দুই দিন।
গণতন্ত্র মঞ্চ: মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মিরপুর ১২ নম্বর থেকে এবং বুধবার একই সময়ে জাতীয় প্রেসক্লা্বের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু করবে।
১২ দলীয় জোট: মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কাকরাইল মোড় থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত এবং বুধবার বিকাল ৩টায় কমলাপুর স্টেডিয়াম থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পর্যন্ত পদযাত্রা করবে এ জোট।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট: মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে থেকে ইত্তেফাকে মোড় পর্যন্ত পদযাত্রা করবে।
গণঅধিকার পরিষদ(নুর): মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু করবে।
এলডিপি: মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পূর্ব পান্থপথে এলডিপি কার্যালয় থেকে শুরু করে মগবাজার, মালিবাগ, কাকরাইল, নয়া পল্টন হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত পদযাত্রা হবে।
গণফোরাম-পিপলস পার্টি: মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় মতিঝিলের আরামবাগে গণফোরাম কার্যালয় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত পদযাত্রা করবে।
লেবার পার্টি: মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পুরানা পল্টন থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে টিকাটুলি এবং বুধবার সকাল ১১টায় পুরানা পল্টন থেকে মানিকনগর পর্যন্ত পদযাত্রা করবে।
গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য: মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শাহবাগ হয়ে ধানমন্ডি যাবে।
সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ: মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শাহবাগ পর্যন্ত।
বিপ্লব বড়ুয়া জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে হবে শান্তি সমাবেশ। তারপর শোভযাত্রা করে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত যাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।
যাত্রাপথ: ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন– শাহবাগ– কাঁটাবন– সায়েন্সল্যাব– কলাবাগান– ধানমন্ডি ৩২।
আর বুধবার তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড়ে শান্তি সমাবেশ হবে। তারপর সেখান থেকে মহাখালী পর্যন্ত শোভাযাত্রা করবে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ।
যাত্রাপথ: সাতরাস্তা– তিব্বত– নাবিস্কো– মহাখালী বাস টার্মিনাল।
ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ মহানগরের বাইরে দুই দিনই শান্তি ও উন্নয়ন শোভাযাত্রা করবে।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিএনপি সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায়।
“আমরা বিএনপির এই চেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরব। আর দেশে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য জনমত তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। দেশে কোনো অস্থিতিশীল অবস্থা যেন সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য শান্তি সমাবেশ করব।”
বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, “যারা ‘এক দফা’র নামে নির্বাচন ভন্ডুল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে চাচ্ছে, সেই বিএনপিসহ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে সমাবেশ।
“দেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা হচ্ছে, সেই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা তুলে ধরতে আমরা উন্নয়ন শোভাযাত্রা করছি।”
শিক্ষকদের কর্মসূচিও থাকছে
মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকরাও মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেবেন।
দেশের নানা প্রান্তের এই শিক্ষকরা এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন। সরকারের তরফ থেকে সাড়া না পেয়ে সব বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে তারা সোমবার ঢাকায় এসে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। তবে পুলিশ তাদের তুলে দেয়।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওসার আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের লাঠিচার্জে শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তাদের রক্ত ঝরেছে।”
তার প্রতিবাদে সোমবারের মতো মঙ্গলবারও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেবেন বলে জানান তিনি।
দায়িত্ব কর্মসূচি পালনকারীদের ছেড়ে দিচ্ছে পুলিশ
দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যানজটের শহর ঢাকায় আগামী দুদিন ভোগান্তি চরমে ওঠার আশঙ্কা থাকলেও পুলিশের কোনো পদক্ষেপের খবর মেলেনি।
বিএনপি অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি পালন করছে জানিয়ে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) খ মহিদ উদ্দিন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদেরও তো দায়িত্ব আছে। জনগণের প্রতি তাদেরও কমিটমেন্ট আছে। পথচারীদের চলাচলের প্রতি কমিটমেন্ট আছে। আমরা আশা করি, সবাই দায়িত্বশীলভাবে যে যার দায়িত্ব পালন করবে।”
যানজট নিয়ন্ত্রণে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ রয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “পুলিশের যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নগরবাসীর জন্য সেটা সবসময়ই থাকে। কোনোদিনই সেটার বাইতে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে যতক্ষণ গাড়ি বিকল্প সড়কে নেওয়ার প্রয়োজন হবে, ততক্ষণ তা করা হবে।
“অনস্পট যেটা করার করা হবে। আর পরিস্থিতি বুঝে ডাইভারশনের প্রযোজন হলে দেব। যান চলাচলে জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”
বিএনপির পদযাত্রা একটি বড় সময় থাকবে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের আওতাধীন এলাকায়। এই বিভাগের উপকমিশনার জসীম উদ্দীন মোল্লা বলেন, “যে কোনো বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, আমরা ততটুকুই করব। স্পেশাল কিছু না।”
মতিঝিল বিভাগের উপর দিয়েও বিএনপির পদযাত্রা যাবে। এই বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, যেখানে যেখানে পুলিশ সদস্য থাকা দরকার, সেখানে সেখানে থাকবে।
বুধবার বিএনপির পদযাত্রা শুরু হবে উত্তরা থেকে। ডিএমপির উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. বদরুল হাসান বলেন, “আশা করি, শান্তিপূর্ণভাবে তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। তারপরও আমরা সতর্ক অবস্থায় থাকব।”