১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘স্বতন্ত্ররা’ গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারবে: কাদের

“নারী সংরক্ষিত আসনে ব্যাপারে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যাদেরকে মনোনীত করবেন, তাদের প্রতি স্বতন্ত্রদের সমর্থন থাকবে”, বলেন তিনি

‘স্বতন্ত্ররা’ গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারবে: কাদের

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মত বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2024, 10:50 PM

Updated : 28 Jan 2024, 10:50 PM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পাওয়া নেতারা সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করলে দলের আপত্তি থাকবে না।

রোববার রাতে গণভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৈঠক শেষে গণভবনের সামনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদেরকে বলেন, “স্বতন্ত্ররা স্বতন্ত্রই থাকবে। তবে তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারবে। এই একটা বিষয় আমাদের সংসদ নেতা, দলের সভাপতি পরিষ্কারভাবে বলেছেন।”

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা জোটবদ্ধ হলে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ১০টি তাদের ভাগে যাওয়ার কথা।

যদি তাদের জোট না হয় এবং তারা আওয়ামী লীগে যোগ না দিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবেই সংসদে থাকেন- তাহলে তাদের ভাগের সংরক্ষিত নারী আসনগুলোর কী হবে- এ প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নারী সংরক্ষিত আসনে ব্যাপারে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা যাদেরকে মনোনীত করবেন, তাদের প্রতি স্বতন্ত্রদের সমর্থন থাকবে, তারা ব্যক্ত করেছেন।”

Image

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মত বিনিময়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা

স্বতন্ত্র এমপিরা কোন হুইপের আওতায় থাকবেন, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “চিফ হুইপ সংসদ নেতার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কৌশল আসনে আসনে দলের ভেতর যে বিভেদ তৈরি করেছে, সেই বিষয়টিও উঠে আলোচনায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত, সহিংসতা, অন্তঃকলহ, এসব বিষয় রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। এটা আর হতে দেওয়া যাবে না।

“তারা (স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা) দাবি করেছে, আওয়ামী লীগেই থাকতে চায়। ভিন্ন কোনো নামে পরিচয় দিতে গেলে আমাদের বিবেক ও আবেগ আহত হয়। নিজেরা নিজেদের মধ্যে কলহ-বিবাদ মিটিয়ে ফেলতে হবে। নির্বাচন ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবার মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটে লড়তে দলের অন্য নেতাদের বাধা দেয়নি।

নৌকা না পেয়েও ৫৯ জন আওয়ামী লীগ নেতা জিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন হারিয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের। জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ ছাড় দেওয়ার পর তাদের ১৪ জন নেতাকেও হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগ নেতারা ছাড়াও আরো তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন এবারের নির্বাচনে। এর আগের ১১টি নির্বাচনে এত বেশি দল নিরপেক্ষ প্রার্থী জয় পাননি।

সংসদে দ্বিতীয় প্রধান দল জাতীয় পার্টির ১১টি আসন পাওয়া এবং স্বতন্ত্রদের তার প্রায় ছয় গুণ আসন প্রাপ্তির পর প্রশ্ন উঠে, প্রধান বিরোধী দল কারা হবে। কারণ, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ও সংবিধান অনুযায়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সংখ্যা বেশি থাকায় তারা জোট করলে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতেই পারতেন।

তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহে ওবায়দুল কাদের জানান, জাতীয় পার্টিই প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের এই সাক্ষাতের দিন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সেই স্বীকৃতিও দেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা এবং কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ হয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। 

আরো পড়ুন:

পুরানো খবর:

স্বতন্ত্রদের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা, দিলেন সংসদ শেখার তাগিদ

পুরানো খবর:

সরকারের ভালো কাজ-ভুল দুটোই তুলে ধরব: এ কে আজাদ

পুরানো খবর:

জিএম কাদের বিরোধী দলীয় নেতা, আনিসুল ইসলাম উপনেতা