Published : 02 Dec 2022, 03:26 PM
সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জনসভায় কোনো ‘সুবিধা পায় না’ বরং নিরাপত্তার কারণে অসুবিধা হয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর জামালখানের সিনিয়রস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তার এ মন্তব্য আসে। প্রধানমন্ত্রীর রোববারের জনসভা সামনে রেখে নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বিএনপির সমাবেশের পাল্টায় পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের এই জনসভা কিনা এবং ক্ষমতাসীন দল হিসেবে জনসভা আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা।
উত্তরে স্বপন বলেন, “জনসভার সকল প্রচার প্রচারণা আমরা দলীয়ভাবে করছি। সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা আমরা ব্যবহার করছি না। যেহেতু আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসবেন, তাই উনার নিরাপত্তার জন্য এবং প্রটোকলসহ বিভিন্ন কিছু সরকারিভাবে নিশ্চিত করতে হয়।
“সেগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করছে। তাই সরকারি অনেক নিয়ম কানুন আমাদের মানতে হয়। এতে সহযোগিতা না হয়ে বাধা হয়। যেমন নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি চেক, বয়োঃবৃদ্ধ অনেকের পক্ষে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সেটা সম্ভব হয় না। তাই আগ্রহ থাকার পরও তারা জনসভায় যোগ দিতে পারেন না, এতে অনেকে চলে যায়। বরং অসুবিধা হয়।”
স্বপন বলেন, “বিএনপির পলোগ্রাউন্ডের জনসভার সাথে আমাদের জনসভার কোনো সম্পর্ক নেই। পাল্টাপাল্টি করছি না। তাদের সমাবেশে মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা ছিল। আমাদের সভানেত্রী আসছেন।
“আর বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশের (১০ ডিসেম্বর) সাথে আমাদের চট্টগ্রামের জনসভার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের মহাসমাবেশের জন্য মহামাঠ আমরা প্রস্তুত রেখেছি। কিন্তু তারা মাঠ ছেড়ে কেন গলির মধ্যে করবেন, সেটা আমরা জানি না।”
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর পর পলোগ্রাউন্ডে জনসভা। এটা অনেকদিন পরে হচ্ছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনী সভায় আমাদের নেত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজে নেন।
“আজ যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন তা উনার অবদান। উনার প্রতি আমাদের অল্প ঋণ পরিশোধের সুযোগ এসেছে এ জনসভার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু এই চট্টগ্রামকে ভালোবাসতেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামকে অনেক ভালোবাসেন। তাই প্রধানমন্ত্রী নিজে চট্টগ্রামের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন।”
মোছলেম উদ্দিন বলেন, “দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল। দেশের একমাত্র মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে হচ্ছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেইন করেছেন। বন্দরে বে টার্মিনাল করা হচ্ছে। কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ হচ্ছে। মিরসরাইতে শিল্প নগরে ১৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। তাই চট্টগ্রামবাসী সন্তুষ্ট।
“পলোগ্রাউন্ডের মাঠের বাইরে জনসভা বিস্তৃতি লাভ করবে। বিরোধী দল অনেক কথা বলছে। আমাদের তাড়িয়ে দেবে তারা ক্ষমতা দখল করবে। আন্দোলন কাকে বলে তা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। আগামী নির্বাচনের জন্য এ জনসভা জোয়ার সৃষ্টি করবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, “মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্প পার্কে সরাসরি ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরোক্ষে ৫০ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ হবে। সারাদেশ থেকে মেধাবীরা সন্তানরা সেখানে কাজ করতে চট্টগ্রামে আসবে।
“টানেল চালু হলে মাতারবাড়ি পর্যন্ত শিল্প এলাকা গড়ে উঠবে। ১০ বছর পর এই মহা উন্নয়নের সুফল দেখবেন। ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নেতৃবৃন্দ থাকবেন। আমাদের বিশ্বাস এ জনসভা শুধু মাঠে নয়, চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ ভূমিতে হবে। চট্টগ্রামের মানুষ একটি ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেবেন।”
জনসভায় কত লোক সমাগম হবে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ হিসাবটা আমরা না বলে, আপনারা বের করবেন জনসভা শেষ হলে। এটা কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়। তিন সাংগঠনিক জেলার জনসভা। বিশ্বাস করি অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে যা ভবিষতে ভাঙতে কষ্ট হবে।”
চট্টগ্রামে এত প্রকল্পের পরও কালুরঘাট সেতু কেন হচ্ছে না প্রশ্ন করা হলে বোয়ালখালীর সাংসদ মোছলেম উদ্দিন বলেন, “কালুরঘাটে নতুন সেতু হবে সেটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন। জনসভায় উনার বক্তব্যে হয়ত নতুন কিছু পাবেন।”
রোববারের জনসভা থেকে চট্টগ্রামে নতুন কোনো প্রকল্পের ঘোষণা আসবে কিনা জানতে চাইলে স্বপন বলেন, “ঢাকা চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বিষয়ে সরকার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। আশা করি দ্রুতই সুখবর পাবেন।”
অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলার সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগরের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম এবং উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।