Published : 01 Jan 2023, 11:52 PM
দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সংসদ ছাড়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপিই ছেড়েছিলেন উকিল আবদুস সাত্তার; এরপর তার পুনরায় নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি দেখে তাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
রোববার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রবীণ এই রাজনীতিককে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
এর আগে দুপুরে উকিল সাত্তার তার পদত্যাগে শূন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)আসনে পুনরায় প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
বিএনপি উকিল সাত্তারকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকে কারণ দেখিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় দলের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তারকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে।”
এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুরানো খবর:
বিএনপি ছাড়লেন উকিল আবদুস সাত্তারবিএনপি বহিষ্কার করার তিন দিন আগে গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন উকিল সাত্তার, যা শনিবার জানিয়েছিলেন তিনি।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ছয়জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার মধ্যে একজন কুমিল্লা জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উকিল সাত্তার।
সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামা বিএনপি সংসদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে গত ১১ ডিসেম্বর উকিল সাত্তারসহ বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগপত্র দেন স্পিকারের কাছে।
এর তিন সপ্তাহের মাথায় বিএনপি ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে উকিল সাত্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি করেছি। দলের যে কোনো সময়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মানছি। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত সংসদ থেকে পদত্যাগ- এটাও মাইনা পদত্যাগ করেছি পার্লামেন্ট থেকে।
“এখন বুঝতে পারছি যে দলে আমাদের প্রয়োজন নেই; দলের কর্মকাণ্ডে তা বুঝতে পারছি। বৃদ্ধ হয়ে গেছি… মান সম্মান থাকতে থাকতে দল থেকে চলে আসছি।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২সহ বিএনপির ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে কথা বলতে উকিল সাত্তারের মোবাইল ফোনে কল করলে তার ছেলে মাইনুল হাসান তা ধরেন। তিনি বলেন, “বাবার পক্ষে একজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন বলে শুনেছি। তবে বাবা নির্বাচন করবেন কি না, এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা পরিবারের লোকজন বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
এদিকে বিএনপির পদত্যাগে শূন্য আসনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কাউকে প্রার্থী করছে না।