১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তারা ব্যস্ত ছবি তোলায়

কেউ কেউ তো নিজের ছবি তুলতে সঙ্গে আলোকচিত্রীও নিয়ে এসেছেন; সমাবেশ শেষ না হলেও ছবি তোলা শেষে অনেককেই চলে যেতে দেখা যায়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2023, 06:42 PM

Updated : 28 Jul 2023, 06:42 PM

তারা সবাই দলবেঁধে এসেছেন আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের ডাকা সমাবেশে। সবার মধ্যেই একটা উৎসবের ভাব। বেশ ঘটা করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ছবিও তুললেন তরুণদের দলটা। ছবি তোলা শেষে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে আর থাকব না। ছবি আপলোড দিব, নাস্তা করে চলে যাব’। 

শুধু এই দলটিই নয়, শুক্রবার এই ‘শান্তি সমাবেশে’ আসা নানা বয়সী নেতাকর্মীদের দেখা গেছে, মোবাইল ফোনে ছবি তোলাতেই মনোযোগ বেশি। কেউ কেউ তো নিজের ছবি তুলতে সঙ্গে আলোকচিত্রীও নিয়ে এসেছেন। উদ্দেশ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি দিয়ে নেতাদের নজরে থাকা। 

সমাবেশস্থলে ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করে দেখা যায়, মঞ্চের আশপাশ, জিরো পয়েন্ট এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন নেতার্কমীরা। সমাবেশ শেষ না হলেও ছবি তোলা শেষে অনেককেই চলে যেতে দেখা যায়। 

শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের শান্তি সমাবেশ শুরু হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাথায় ক্যাপ পরে তাতে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। 

সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা যায়, খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসছেন বিভিন্ন এলাকার দলীয় নেতাকর্মীরা। জিরো পয়েন্টের সামনে এসেই অনেক নেতাকর্মীকে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। কেউ কেউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। 

ঢাকার লালবাগ এলাকা থেকে সমাবেশে এসেছেন ১৫-২০ জন। তাদের তিনজন তিনটি মোবাইল ফোনে অন্যদের ছবি তুলে দিচ্ছেলেন। 

নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী পরিচয় দিয়ে সুমন মিয়া বলেন, “সমাবেশে যে এসেছিলাম তার প্রমাণ রাখছি। ছবি তুলে ফেইসবুকে দেব, নেতারা দেখবে।” 

সচিবালয়ের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ছবি তুলছিলেন একদল নেতাকর্মী। যখন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল চিৎকার করে স্লোগান ধরছিলেন। 

মিছিল আসার আগেই জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। সেখানে নিজেদের এলাকার মিছিল আসার সময় নেতাদের ছবি তুলছিলেন তারা। 

সেখানে ফয়সাল আহমদ নামের একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নেতা বলেছিলেন ছবি তুলে দিতে, নেতার ছবি তুলে দিয়েছি। মিছিলের সঙ্গে আমিও সেলফি তুলেছি।” 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সেলফি তুলছিলেন টঙ্গীর স্বেচ্ছাসেবক লীগকর্মী আউয়াল। 

তিনি বলেন, “আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ডিজিটাল করে দিয়েছেন। আমরা এখন যা কিছুই করি তার সবই ফেইসবুকে শেয়ার করি।”