১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থা অপ্রতুল, সংসদে স্বীকার করলেন মঈন খান

বাংলাদেশের নদীগুলো অনেকাংশে ভরাট হয়ে গেছে, বলেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 08:51 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জাতীয় সংসদে স্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০৮টি জলাবদ্ধতার স্থান চিহ্নিত করার পাশাপাশি এসব এলাকার সমস্যা মোকালিয়ায় ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী।

এ ছাড়া যাতে দ্রুত পানি নেমে যায়, সেজন্য আরও দুটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে আনা একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মঈন খান।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম প্রস্তাবটি আনেন।

তার প্রস্তাব ছিল, “সংসদের অভিমত এই যে, রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

প্রস্তাবটির ওপর ১০ জন সংসদ সদস্য সংশোধনী দেন। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ, নাটোর, খুলনা, মেহেরপুর, যশোর, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা উঠে আসে তাদের বক্তব্যে।

জবাব দিতে উঠে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার একটি বড় কারণ প্রাকৃতিকভাবে পানি নেমে যাওয়ার জায়গা ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, “একটি শহরের একটি সীমিত আয়তন এবং এখানে আজকে জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটির ওপরে। কোনো কোনো হিসাবে প্রায় ৩ কোটির কাছাকাছি। ফলশ্রুতিতে যা হয়েছে, মানুষ আবাসন করার জন্য যেসব এলাকা দিয়ে প্রাকৃতিক নিয়মে বৃষ্টির পানিগুলো নেমে যেত, সেই এলাকাগুলো ভরাট করে তারা গৃহায়ন করেছে।”

এ সমস্যার সমাধান ব্যয়বহুল বলেও মন্তব্য করেন মঈন খান।

ঢাকার বাইরের জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো অনেকাংশে ভরাট হয়ে গেছে। উজানে পানি প্রত্যাহারের প্রভাবে বিভিন্ন নদীতে পলি ও বালি জমেছে।

সরকার ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

মঈন খান বলেন, “আমি স্বীকার করছি, যেহেতু এই সমস্যাগুলো দীর্ঘ দশকের পর দশক ধরে সৃষ্টি হয়েছে, এটার রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়।”

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান ‘ম্যাপিং’ করে ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রথমত জলাবদ্ধতাপ্রবণ স্থান আমরা চিহ্নিত করছি। আমরা ম্যাপিং করছি। আমরা হটস্পট চিহ্নিত করছি। এবং এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পরে তার দ্রুত সমাধানের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”

মন্ত্রী জানান, এভাবে ১০টি অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি।

এসব দল নিয়মিত ‘ক্যাচপিট’, ‘ড্রেনেজ লাইন’ এবং জলাবদ্ধতার ‘হটস্পট’ পরিষ্কার করছে।

“ফলে জলাবদ্ধতা, আমি বলব হয়তো পুরোপুরি নয়, কিন্তু কিছুটা হ্রাস পেয়েছে,” দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ বা উন্নয়ন করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার রাস্তা এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমার উন্নয়নকাজ চলছে।

মঈন খান বলেন, “ডিএনসিসির (ঢাকা উত্তর সিটি) আওতাধীন এলাকাসমূহে প্রায় ১০৮টি জলাবদ্ধতার স্থান আমরা চিহ্নিত করেছি এবং চিহ্নিত করে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়েও সংসদে তথ্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি বের করার জন্য কমলাপুর, টিটিপাড়া ও ধোলাইখাল এলাকায় বর্তমানে তিনটি ‘আউটলেট’ রয়েছে।

এসব আউটলেটের মাধ্যমে মোট ১০৯ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি স্বীকার করি, এটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।”

ঢাকা শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের খাল, নর্দমা ও ছোট নদীর অধিকাংশ ভরাট হয়ে গেছে, বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের যত প্রাকৃতিক জল নিষ্কাশনের জন্য যেসব খাল, নর্দমা এবং ছোট নদী ছিল, সেগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গিয়েছে।”

এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আরও দুটি আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া ছাড়াও শ্যামপুর খালের পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য বক্স কালভার্ট ও বড় পাইপলাইন নির্মাণের কাজও চলছে, বলেন মন্ত্রী।

এরপর সানজিদা ইসলামকে তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সানজিদা ইসলাম সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে এসব কাজ কবে শুরু ও শেষ হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার তারপরেও আরেকটা প্রশ্ন থেকে যাবে যে, এই নিরসনে গৃহীত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে এবং কবে শেষ হবে, যেন জনগণের ভোগান্তিগুলো আমরা শেষ করতে পারি, তাদেরকে স্বস্তি দিতে পারি।”

পরে তিনি সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের ইচ্ছা জানান।

কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়টি ভোটে দেন ডেপুটি স্পিকার। কণ্ঠভোটে অনুমোদন পেলে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার হয়।